স্পোর্টস ডেস্ক: অধিনায়কত্বের দায়িত্ব আর তাঁর হাতে নেই। কিন্তু ব্যাট হাতে এখনও ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম ভরসা হরমনপ্রীত কৌর। নেতৃত্ব হারানোর পর নতুন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এ বার শুধু ব্যাটিং উপভোগ করতে চান ভারতের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুরন্ত শতরান করে দলকে বড় জয় এনে দেওয়ার পর নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। হরমনপ্রীতের কথায়, ক্রিকেট তাঁকে আনন্দ দেয়। তাই অধিনায়কত্বের চাপ নয়, আপাতত ব্যাটার হিসাবে নিজের খেলাটাই উপভোগ করতে চান তিনি।
সম্প্রতি ভারতীয় মহিলা দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে স্মৃতি মান্ধানাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জিম্বাবোয়ে সিরিজের আগে এই পরিবর্তন নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ দিন ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া হরমনপ্রীতের কাছে এই পরিবর্তন ছিল কেরিয়ারের নতুন একটি অধ্যায়। তবে নেতৃত্ব হারানোর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়াতে চান না তিনি। বরং পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে নিজের খেলায় মন দিতে চান অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
ম্যাচের পরে হরমনপ্রীত বলেন, ‘আমি এমন একজন, যে সব সময় বাস্তবের কাছাকাছি থেকে জীবন কাটাতে পছন্দ করি। এটাই এখন বাস্তব এবং আমি সেটাকে মেনে নিতে চাই। ক্রিকেট এমন একটা বিষয়, যা আমাকে আনন্দ দেয়। ব্যাটিং আমি গোটা কেরিয়ার জুড়েই উপভোগ করেছি। এখন শুধু ব্যাটিং উপভোগ করতে চাই।’
জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে ভারতের ১২১ রানের জয়ের পিছনে বড় অবদান ছিল হরমনপ্রীতের। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। সেখান থেকে দলকে সামলে বড় রানের ভিত গড়ে দেন হরমনপ্রীত এবং প্রতিকা রাওয়াল। প্রতিকা করেন ৬১ রান। অন্য দিকে, হরমনপ্রীতের ব্যাট থেকে আসে ১২৬ রান। ১২১ বলের ইনিংসে তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল দায়িত্ববোধ, ধৈর্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণের মিশেল। দু’জনের জুটিতে বিপর্যয় কাটিয়ে বড় রানের দিকে এগিয়ে যায় ভারত।
এই শতরানের সঙ্গে আরও একটি উল্লেখযোগ্য নজির গড়েছেন হরমনপ্রীত। মহিলাদের এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি তাঁর অষ্টম শতরান। এর ফলে প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক মিতালি রাজকে টপকে গেলেন তিনি। ভারতীয় মহিলাদের এক দিনের ক্রিকেটে এখন তাঁর চেয়ে বেশি শতরান রয়েছে শুধু স্মৃতি মান্ধানার। স্মৃতির শতরানের সংখ্যা ১৪। অর্থাৎ, নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও ব্যাটার হরমনপ্রীতের ধার কমেনি, তা আরও এক বার প্রমাণিত হল। এর কয়েক দিন আগেই জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৯১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
ব্যাট করতে নামার পরে অধিনায়কত্ব নিয়ে ভাবেন না বলেও জানিয়েছেন হরমনপ্রীত। তাঁর কাছে তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্ব নিয়ে খেলা। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন ব্যাট করছেন, তখন এই বিষয়গুলি মাথায় আসে না। তখন আপনি একজন ব্যাটার হিসাবে খেলছেন। আপনার দায়িত্ব নিতে হয় এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করতে হয়। পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, আমি নিজের ব্যাটিং উপভোগ করতে চাই।’
এক দিনের ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েও নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই ফরম্যাটে ধৈর্য ধরে খেলার পাশাপাশি খারাপ বলের সুযোগ নেওয়াও জরুরি। প্রতিকা রাওয়ালের সঙ্গে ব্যাট করার সময় এই বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছিল তাঁদের। হরমনপ্রীত বলেন, ‘আমরা সে দিন এক দিনের ম্যাচ খেলছিলাম। এই ফরম্যাটে আলাদা ভাবে খেলতে হয়। প্রতিকা এবং আমি আলোচনা করেছিলাম, ভালো বলকে সম্মান দিতে হবে। আবার খারাপ বল এলে তার সুযোগও ছাড়া যাবে না।’
শুধু ব্যাটিংয়ের কৌশল নয়, ম্যাচ চলাকালীন নিজের শারীরিক সমস্যার কথাও জানিয়েছেন হরমনপ্রীত। আগের রাতে তাঁর হালকা জ্বর ছিল। মাঠে ফেরার পরে সেই অসুস্থতার প্রভাব পড়েছিল বলেও জানান তিনি। হরমনপ্রীত বলেন, ‘আগের রাতে আমার হালকা জ্বর ছিল। সেই কারণেই মাঠে ফিরে কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম। একটু বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলাম। ব্যথার ওষুধে উপকার হচ্ছে।’
ভারতের এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দল। সিরিজও পকেটে পুরে ফেলেছে ভারত। এই ম্যাচে শুধু হরমনপ্রীত নন, দীপ্তি শর্মাও শতরান করেছেন। অন্য দিকে, বল হাতে চার উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন বৈষ্ণবী শর্মা। সব মিলিয়ে দলগত পারফরম্যান্সে জিম্বাবোয়েকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত।
অধিনায়কত্বের অধ্যায় পিছনে ফেলে হরমনপ্রীত এখন নিজের ব্যাটিংয়েই আনন্দ খুঁজতে চান। তাঁর সাম্প্রতিক ইনিংস বুঝিয়ে দিয়েছে, নেতৃত্বের দায়িত্ব না থাকলেও দলের জন্য তাঁর গুরুত্ব কমেনি। বরং নতুন ভূমিকায় নিজেকে মানিয়ে নিয়ে ব্যাট হাতে আরও সাফল্য পাওয়াই এখন তাঁর লক্ষ্য।




