রাতে যখন সবাই ঘুমোচ্ছে, তখনই একনাগাড়ে টানা বৃষ্টির জেরে মুম্বাইয়ে ঘটে গেল এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। ওই শিশুসহ মৃত্যু হয়েছে সাত জনের, আহত হয়েছে একাধিক জন। টানা মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সাক্ষী থাকল বাণিজ্যনগরী মুম্বই। বুধবার ভোরে মুম্বইয়ের কুরলা এলাকায় পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়ে ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আর এতেই বেশ কয়েকটি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পাহাড়ের কোলে অবস্থিত বিভিন্ন গ্রাম ইতিমধ্যেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে। এই ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুই শিশুসহ মোট সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে মৃতদের চার লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০০০০ টাকা সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোর তিনটে নাগাদ কুরলার চিরাগ নগর এবং ঘাটকোপারের অশোক নগর সংলগ্ন গাউসিয়া চওল ও রাঠোড় মেডিক্যাল এলাকায় এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে টিলার মাটি আলগা হয়ে আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।
হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, টানা বৃষ্টি আরও বেশ কিছুদিন চলবে। স্থানীয়রা জানাচ্ছে, গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই বিপর্যয় নেমে আসে। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে উদ্ধারকাজে হাত লাগায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ এবং বৃহন্মুম্বই পুরসভা বা বিএমসি-র বিশেষ দল।
এদিকে, আবহাওয়া দফতর বা আইএমডি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন মুম্বইয়ে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে। সেই কারণে আগেভাগেই চরম সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। আবহাওয়া ভবনের তরফ থেকে মুম্বই, থানে, পালঘর এবং রায়গড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তাই আসন্ন দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে বিপজ্জনক এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। তবে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতিমধ্যে এলাকায় চলছে উদ্ধারকাজ। তবে ধসে আরও কতজন চাপা পড়ে রয়েছে তার খোঁজে উদ্ধারকারীরা।