মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই ভয়াবহ ভূমিধ্বস মুম্বইয়ে। বুধবার ভোররাতে কুর্লার অশোকনগর এলাকায় ধ্বস নামার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও চার-পাঁচ জন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, বৃহন্মুম্বই পুরসভা (BMC), জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-সহ একাধিক উদ্ধারকারী দল। শুরু হয়েছে জোরকদমে উদ্ধারকাজ।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাত প্রায় ৩টে নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ গণেশ শিন্ডে জানিয়েছেন, অশোকনগর এলাকায় বৃষ্টির জেরে ভূমিধ্বস হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সাহিল আনসারি (২৮) এবং মহম্মদ সামির (১৪)-এর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজাওয়াড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কয়েক জন আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে চলছে তল্লাশি।
এই ঘটনায় আহত হয়েছেন সোহেল আনসারি (১৮) এবং মহম্মদ আনসারি (১৪)। দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুম্বইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে। উদ্ধারকাজে যাতে কোনও খামতি না থাকে, সে দিকে নজর রাখছেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা। ঘটনাস্থলের দৃশ্যে দেখা গিয়েছে, পরিজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। অ্যাম্বুল্যান্সে দেহ নিয়ে যাওয়ার সময় স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় স্থানীয়দের।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে মুম্বইয়ের ভিলে পার্লেতে একটি বহুতলে আগুন লেগে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। শাঁতা ভবন নামে ১২ তলা আবাসনের ১১ তলায় রাত প্রায় ১০টা নাগাদ দু’টি ফ্ল্যাটে আগুন লাগে। ঘটনায় মোট আট জন আহত হন, তাঁদের মধ্যে দু’জন দমকলকর্মী। মৃতদের মধ্যে রয়েছে আড়াই বছরের শিশু আবির এবং ২৩ বছরের অঙ্কিতা। অন্য দিকে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভারী বৃষ্টিতে বার বার বিপর্যস্ত মুম্বই। জলমগ্ন হয়েছে শহরের বিভিন্ন এলাকা, ব্যাহত হয়েছে সড়ক ও অন্যান্য পরিবহণ পরিষেবা। বৃষ্টির জেরে বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। আবহাওয়া দফতরও ভারী বৃষ্টির সময়ে একাধিক সতর্কতা জারি করেছে।