স্পোর্টস ডেস্ক: অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নকে আর শুধু স্বপ্নের মধ্যে আটকে রাখতে চাইছে না ভারত। ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক আয়োজনের জন্য এ বার নিজেদের ভাবনা, লক্ষ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা প্রকাশ করল ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা (আইওএ)। সেই প্রস্তাবের মূল ভাবনা— ‘রাইজিং টুগেদার’। বুধবার প্রকাশিত এই পরিকল্পনায় খেলাধুলাকে শুধু পদক জয়ের মঞ্চ হিসেবে নয়, বরং দেশের যুবসমাজের সুযোগ তৈরি, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর সামাজিক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবিত আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু গুজরাতের আহমেদাবাদ। ২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে ভারতের অবস্থান যে এখন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, তা আরও স্পষ্ট হয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে। মঙ্গলবার আইওসি জানিয়েছে, আগামী ২০৩৬ সালের গেমস আয়োজনের জন্য ভারত-সহ সাতটি দেশ বর্তমানে ‘কনটিনিউয়াস ডায়ালগ’-এ রয়েছে।
ভারতের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে জার্মানি, হাঙ্গেরি, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তুরস্ক। অর্থাৎ আয়োজক হওয়ার দৌড় এখন আর প্রাথমিক আগ্রহ প্রকাশের স্তরে নেই। আইওসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির আলোচনা আরও নির্দিষ্ট পর্যায়ে এগোচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতেই নিজেদের পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও জোরালো ভাবে তুলে ধরতে চাইছে ভারত। ‘রাইজিং টুগেদার’ নামটিও সেই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইওএ-র বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অলিম্পিককে এমন একটি আয়োজন হিসেবে তুলে ধরা হবে, যার সুফল শুধু প্রতিযোগিতার কয়েকটি সপ্তাহে সীমাবদ্ধ থাকবে না। খেলাধুলার পরিকাঠামো, যুবসমাজের বিকাশ এবং দেশজুড়ে ক্রীড়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলিকেও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা হবে।
আহমেদাবাদকে কেন্দ্র করে এই প্রস্তাবের আর একটি বড় লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পরিকাঠামোর সঙ্গে ভারতের উন্নয়নের বৃহত্তর ছবিটিকে যুক্ত করা। আইওএ-র ভাবনায় খেলাধুলা হবে সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি। অর্থাৎ অলিম্পিক আয়োজনের মাধ্যমে শুধু বিশ্বমানের প্রতিযোগিতা পরিচালনা নয়, নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার দিকে টেনে আনা, তরুণদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া এবং দেশের ক্রীড়া-সংস্কৃতিকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা থাকবে। প্যারালিম্পিককেও একই গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে বিশেষভাবে সক্ষম ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ, সুযোগ এবং ক্রীড়া পরিকাঠামোয় অন্তর্ভুক্তিকেও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। ভারতের প্রস্তাবের মূল সুর তাই অলিম্পিক শুধুই একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির একটি মঞ্চ।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আইওসির ‘কনটিনিউয়াস ডায়ালগ’-এ থাকা সাত দেশের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাকে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। ফলে ভারতের সামনে এখন নিজেদের প্রস্তাবকে আরও আকর্ষণীয় এবং কার্যকর করে তোলার পরীক্ষা। ‘রাইজিং টুগেদার’-এর মাধ্যমে সেই পরীক্ষায় প্রথম বড় পদক্ষেপ করল আইওএ। ভারতের লক্ষ্য স্পষ্ট। আহমেদাবাদকে সামনে রেখে এমন একটি অলিম্পিকের ছবি তুলে ধরা, যা শুধু স্টেডিয়ামের আলোয় ঝলমল করবে না, তার প্রভাব পৌঁছবে মাঠের বাইরেও। তরুণদের স্বপ্ন, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন— এই তিন স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই ২০৩৬-এর মঞ্চ পাওয়ার লড়াইয়ে নামছে ভারত।
