স্পোর্টস ডেস্ক: বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই, বল হাতে বিধ্বংসী দাপট আর ব্যাট হাতে চরম নাটকীয়তা! ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নিল ভারত। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৪ রানে জিতল শুভমন গিলের দল। ম্যাচের নায়ক গুরনুর ব্রার। তাঁর আগুনে বোলিংয়ে মাত্র ১৩৪ রানেই গুটিয়ে গেল নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। কিন্তু সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ভারতকে যথেষ্ট বেগ পেতে হল। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিই স্বস্তি দিল ভারতীয় শিবিরকে। ২৬ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৩ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে ৪ রান এগিয়ে ছিল ভারত।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শুভমন। শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের সামনে সমস্যায় পড়ে নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন অকিব নবি। অংশুল কম্বোজ তুলে নেন নিকোলসের উইকেট। ফলে মাত্র ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কিউয়িরা। ড্যারিল মিচেল একমাত্র ব্যাটার যিনি প্রতিরোধ গড়েন। ১০১ বলে ৬০ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১টি ছয়। ২১ রানে তাঁর ক্যাচ পড়েছিল।
সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যান মিচেল। মিচেল ও স্যান্টনারের জুটিতে আসে ৫৯ রান। কিন্তু গুরনুর ব্রারের দাপটে সেই প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে। এক ওভারে টম লাথাম ও গ্লেন ফিলিপসকে ফিরিয়ে দেন তিনি। পরে স্যান্টনারকেও তুলে নেন। শেষ দিকে আরও একটি উইকেট নিয়ে ১০ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ৪ উইকেট পান গুরনুর। তাঁর কেরিয়ারের সেরা বোলিংয়ে ৪১ ওভারে ১৩৪ রানে শেষ হয় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। অকিব নবি ২টি এবং কম্বোজ ১টি উইকেট নেন।
জবাবে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে ভারত। জ্যাকব ডাফি প্রথমেই শুভমন গিলকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন। বিরাট কোহলি করেন মাত্র ৭। রোহিত শর্মা ২৬ বলে ২৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৪টি চার। তাঁকে ফেরান কাইল জেমিসন। অক্ষর প্যাটেলও ১ রান করে আউট হন। ৪৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। শ্রেয়স আইয়ার ও লোকেশ রাহুল পঞ্চম উইকেটে ৩৯ রান যোগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। শ্রেয়স করেন ৩৩ বলে ২২। জেমিসনের বাউন্সারে তাঁর ইনিংস শেষ হয়। নামন ধীর করেন ১০ বলে ৮। তিনিও বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন।
এর পরেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন লোকেশ রাহুল। ৩৮ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অনশুল কাম্বোজ করেন ১। শেষ দিকে বৃষ্টি নামায় আর খেলা সম্ভব হয়নি। ২৬ ওভারে ভারতের রান তখন ৭ উইকেটে ১১৩। জেমিসন ৩৫ রানে ৩ উইকেট নেন, ডাফির ঝুলিতে ২টি। তবে শেষ হাসি হাসল ভারতই। ম্যাচের সেরা গুরনুর ব্রার।




