নিউজ ডেস্ক: ব্যাটে রান নেই। পরপর ম্যাচে ব্যর্থতা। একের পর এক শূন্যের ধাক্কায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল যশস্বী জয়সওয়ালের ফর্ম নিয়ে। কিন্তু যাবতীয় সংশয়ের জবাব দিলেন ব্যাট হাতেই। পরপর দু’টি বেসরকারি টেস্টে শতরান করে ছন্দে ফিরলেন ভারতের তরুণ ওপেনার। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগে যশস্বীর এই প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তি ভারতীয় শিবিরে। বিশেষ করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এই সিরিজ শুভমান গিলদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে খেলছেন যশস্বী। লিঙ্কনে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে তৃতীয় বেসরকারি টেস্টের দ্বিতীয় দিনেও তাঁর ব্যাটে ঝলসে উঠল বড় রান। ১৩৮ বলের ইনিংসে ১০২ রান করেন তিনি। মারেন ১৬টি চার এবং দু’টি ছক্কা। অর্থাৎ তাঁর মোট রানের ৭৬-ই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন বাঁ হাতি ওপেনার। তবে বৃষ্টির কারণে ম্যাচে বারবার বিঘ্ন ঘটেছে। ভারতীয় দল ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে গেলেও আবহাওয়ার বাধায় খেলা প্রত্যাশামতো এগোয়নি।
যশস্বীর পাশাপাশি রান পেয়েছেন সাই সুদর্শনও। তিনি ৭৭ রানে অপরাজিত রয়েছেন। ওপেনিংয়ে ফিরে নিজের ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন এই বাঁ হাতি ব্যাটার। তবে ব্যর্থ দেবদত্ত পাডিক্কাল। অন্যদিকে অধিনায়ক ধ্রুব জুরেল অপরাজিত ছিলেন।
এর আগে ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় বেসরকারি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেছিলেন যশস্বী। ১৫০ বলের সেই ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ছিল ৯৬-এর বেশি। সেই ম্যাচে শতরান করেছিলেন যশ রাঠোরও। ভারত ২ উইকেটে ২৮২ রান তোলার পর বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ড্র হয়ে যায়।
অথচ এই সাফল্যের আগে সময়টা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে চার বল খেলেই শূন্য রানে ফিরেছিলেন যশস্বী। তার আগের ম্যাচে দুই ইনিংসে করেছিলেন ১৭ ও ৫ রান। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ এবং টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। রনজি ট্রফিতে ছত্তিশগড়ের বিরুদ্ধেও রান পাননি। শেষ ন’টি ইনিংসে চার বার শূন্য রানে ফেরার তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাঁর।
সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এখন শতরানের জোড়া সাফল্য। আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শুরু ভারতের। তার আগে যশস্বীর এই ছন্দে ফেরা ভারতীয় দলের কাছে বড় প্রাপ্তি। তবে বেসরকারি ম্যাচের এই সাফল্যকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কতটা কাজে লাগাতে পারেন তিনি, এখন সেটাই দেখার।




