স্পোর্টস ডেস্ক: কেপটাউনের সেই বল বিকৃতির কাণ্ড নিয়ে আট বছর পর মুখ খুলে ক্রিকেটবিশ্বে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন উসমান খোয়াজা। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ওপেনারের দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেই টেস্টে বল বিকৃতির ঘটনা শুধু স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার কিংবা ক্যামেরন ব্যানক্রফটের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দলের প্রত্যেকেই জানতেন কী ঘটছে। এমনকী, কেপটাউনের আগের পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টেও নাকি স্যান্ডপেপার ব্যবহার করা হয়েছিল। খোয়াজার এই মন্তব্যে ফের প্রশ্নের মুখে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের সেই সময়ের অন্ধকার অধ্যায়।
সম্প্রতি ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক দাবি করেছেন খোয়াজা। তাঁর আত্মজীবনী ‘সবর’-এও বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। খোয়াজার কথায়, “এটা আমরা সবাই করেছিলাম। শুধু ব্যাটার, বোলার কিংবা দলের সাপোর্ট স্টাফ নয়, সবাই জানত।” তাঁর এই দাবি ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার চার পেসার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড এবং নাথান লিয়ঁর দেওয়া যৌথ বিবৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত। সেই বিবৃতিতে বল বিকৃতির ঘটনা সম্পর্কে তাঁদের কিছু জানা ছিল না বলে দাবি করেছিলেন চার বোলার।
২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কেপটাউন টেস্টে ক্যামেরন ব্যানক্রফটের ট্রাউজারের ভিতর থেকে স্যান্ডপেপারের ছোট টুকরো উদ্ধার হয়। টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাঁর সেই কাণ্ড। পরে অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ স্বীকার করেন, দলের নেতৃত্বগোষ্ঠী বল বিকৃতির পরিকল্পনা করেছিল। শাস্তি হিসেবে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে ১২ মাসের জন্য নির্বাসিত করা হয়। ব্যানক্রফটের নির্বাসনের মেয়াদ ছিল ৯ মাস। স্মিথের উপর আরও ১২ মাস নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছিল। ওয়ার্নারের ক্ষেত্রে আজীবন অধিনায়কত্বের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল, যদিও ২০২৪ সালে তা তুলে নেওয়া হয়।
খোয়াজার দাবি, ঘটনার পর সাজঘরেই তিনি সতীর্থদের বলেছিলেন, দায়টা যেন গোটা দল নেয়। তিন জনের ঘাড়ে সব দোষ চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর কথায়, “আমরা দল হিসেবে এটা করেছি। আমরা জানতাম কী হচ্ছে। তাই দল হিসেবেই দায় নিতে হবে।” কিন্তু তাঁর সেই অবস্থান বাস্তবায়িত হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকেই সমস্ত সমালোচনা এবং শাস্তির মুখে পড়তে হয়।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খোয়াজা। তাঁর বিস্ময়, সেই টেস্টে ব্যানক্রফটের পাশেই বসে থাকা সত্ত্বেও তাঁকে একবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তাঁর ধারণা, সত্যিটা সামনে আনার পক্ষে তিনি ছিলেন বলেই তদন্তকারীরা তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি। ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু কোনও ফোন আসেনি। তার পরেই তিন ক্রিকেটারের শাস্তি ঘোষণা করা হয়।
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে বর্তমান অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সঙ্গেও নিজের বই নিয়ে কথা বলেছিলেন খোয়াজা। বছরের শুরুতে অ্যাশেজের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া প্রাক্তন ওপেনার জানেন, তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তবু তাঁর বক্তব্য, সত্যিটা সামনে আসা জরুরি। স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে আট বছর ধরে যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, তাঁদের প্রাপ্য ন্যায়বিচারটুকু পাওয়া উচিত।




