নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফের সরব হল ভারত। বুধবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটির বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ইসলামাবাদকে তীব্র আক্রমণ করেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রঘু পুরী। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান নিজেকে সন্ত্রাসবাদের শিকার এবং সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের সামনের সারির দেশ হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা।
রঘু পুরীর বক্তব্যে উঠে আসে ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’-এর উপমা। তাঁর দাবি, পাকিস্তানি রাষ্ট্র যে সন্ত্রাসের শক্তিকে তৈরি ও মদত দিয়েছিল, পরবর্তীতে সেটিই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলির পাশাপাশি পাকিস্তানের ভিতরেও হিংসা ছড়াচ্ছে। ভারতের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের দ্বৈত অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও স্পষ্ট।
রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ৯/১১ হামলার প্রসঙ্গও টেনে আনেন রঘু পুরী। তিনি মনে করিয়ে দেন, হামলার মূল চক্রী ওসামা বিন লাদেন শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। পাশাপাশি ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা এবং সাম্প্রতিক পহেলগাঁও হামলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পহেলগাঁও হামলা নিয়ে রঘু পুরীর বক্তব্য ছিল আরও কড়া। তাঁর দাবি, সেখানে নিহত পর্যটকদের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়া হয়নি, তাঁদের ধর্ম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা পাকিস্তান কীভাবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এড়াবে?
‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়েও পাকিস্তানের বক্তব্যকে কটাক্ষ করেন ভারতীয় কূটনীতিক। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তান যদি বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত বিমানঘাঁটি এবং গর্তে ভরা রানওয়েকে নিজেদের জয় বলে মনে করে, তাহলে তারা সেই দাবি নিয়ে আনন্দ করতেই পারে। কিন্তু তাতে বাস্তব পরিস্থিতি বদলে যাবে না।
এরপরই উঠে আসে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের প্রসঙ্গ। রঘু পুরীর অভিযোগ, পাকিস্তান একদিকে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার পুরস্কার বাড়ানোর কথা ঘোষণা করছে, অন্যদিকে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমেই তার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, সংবাদমাধ্যম যদি মাসুদ আজহারের কাছে পৌঁছতে পারে, তাহলে পাকিস্তান সরকার তার অবস্থান সম্পর্কে অজ্ঞাত এমন দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
ভারতীয় প্রতিনিধি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। নওয়াজ শরিফের ২০১৮ সালের একটি সাক্ষাৎকারের উল্লেখ করে তিনি ২৬/১১ মুম্বই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলির সম্পর্ক নিয়ে তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
সবশেষে রঘু পুরীর অভিযোগ, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপের বদলে বারবার বয়ান, প্রচার এবং পাল্টা প্রচারের আশ্রয় নিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তান যদি বয়ান তৈরির পরিবর্তে সন্ত্রাস দমনে মন দিত, তাহলে গোটা বিশ্বের পরিস্থিতিই আরও ভালো হতে পারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের এই বক্তব্যের পর ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সংঘাত ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন মাত্রা পেল।
