আমস্টেলভিন, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: শুক্রবারের পর শনিবারের রাতটাও হতাশার হয়ে রইল ভারতীয় হকির জন্য। পুরুষদের হকি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ১-৩ গোলে হারল ভারত। আমস্টেলভিনে প্রথম দুই কোয়ার্টারে দাপট দেখিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখলেও তৃতীয় কোয়ার্টারে একের পর এক ভুলের খেসারত দিতে হল হরমনপ্রীত সিংদের। ফলে সেমিফাইনালে ওঠার রাস্তাটাও হয়ে গেল কঠিন। এখন তাঁদের তাকিয়ে থাকতে হবে পরের ম্যাচের ফলাফলের দিকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে ছিল ভারত। প্রথম কোয়ার্টারে প্রায় ৬৩ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি তারা। বরং নেদারল্যান্ডসই প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে। তবে ভারতীয় রক্ষণ, বিশেষ করে মনপ্রীত সিংয়ের নেতৃত্বে পেনাল্টি কর্নার রুখে দিয়ে বার বার বিপদ সামলায়। দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও ভারতের দাপট বজায় ছিল। ২৪ মিনিটে দিলপ্রীত সিংহের সামনে সহজ সুযোগ এসেছিল। মনপ্রীতের দুর্দান্ত পাস থেকে গোল করার জায়গায় পৌঁছে গেলেও ডাচ গোলরক্ষকের হাতে আটকে যায় তাঁর শট। বিরতিতে ভারতীয় দলের দখলে ছিল ৬০.২ শতাংশ বল।
কিন্তু তৃতীয় কোয়ার্টারেই বদলে যায় ছবিটা। ৪১ মিনিটে ডান দিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে ডুকো টেলগেনক্যাম্পের স্টিকে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। পিছিয়ে পড়ে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ভারত। হরমনপ্রীত পর পর দু’টি পেনাল্টি কর্নার পেলেও প্রথমটি রুখে দেয় ডাচ রাশার, দ্বিতীয়টি বাইরে চলে যায়। ৫১ মিনিটে হোডেমেকার্সের গোলে ব্যবধান বাড়ায় ডাচরা। এক মিনিট পরেই অবশ্য হরমনপ্রীতের পেনাল্টি কর্নারের জোরালো ড্র্যাগ-ফ্লিকে ম্যাচে ফেরে ভারত।
শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর জন্য ভারত যখন মরিয়া, তখনই বড় ভুল। ৫৫ মিনিটে মাঝমাঠে বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে থাইস ভান ড্যাম নেদারল্যান্ডসের তৃতীয় গোলটি করেন। ফের দু’গোলে পিছিয়ে পড়ে ভারতের প্রত্যাবর্তনের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। এর আগের দিন ভারতের মেয়েরাও নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেছিল ০-২ ব্যবধানে। এ দিকে এ দিনের ম্যাচের বড় চিন্তা হয়ে থাকল হরমনপ্রীতের পিঠের চোটও। ম্যাচের দীর্ঘ সময় তাঁকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। নেদারল্যান্ডসের কাছে হারায় ভারতের সেমিফাইনালের আশা এখন অন্য ম্যাচের ফলের উপরও নির্ভরশীল।