স্পোর্টস ডেস্ক: দু'বারের বিশ্বকাপজয়ী উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছিল ভারত। শুরুটাও হয়েছিল দারুণ। কিন্তু ম্যাচের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখনই কলকাতার আকাশে দেখা দিল বজ্রপাতের আশঙ্কা। ফলে মঙ্গলবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মাঝপথেই থামিয়ে দিতে হল ভারত-উরুগুয়ে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। খেলা বন্ধ হওয়ার সময় স্কোরলাইন ১-১। অর্থাৎ, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেছে ভারত। ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে উরুগুয়েকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ডারউইন নুনেজ। তার ১০ মিনিটের মধ্যেই জবাব দিলেন অনিরুদ্ধ থাপা। রায়ান উইলিয়ামসের দূরপাল্লার শট উরুগুয়ের গোলরক্ষক কারদোজো আটকে দিলেও ফিরতি বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে জালে জড়িয়ে দেন থাপা। গোলের পর গোটা যুবভারতী যেন ফেটে পড়ে উচ্ছ্বাসে। ঠিক তার কিছুক্ষণ পরেই বজ্রপাতের আশঙ্কায় ফুটবলারদের মাঠ ছাড়তে বলা হয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতকে বেশ আগ্রাসী দেখাচ্ছিল। উরুগুয়ে অবশ্য বলের দখল নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করছিল। ৬ মিনিটে ডান দিক থেকে আক্রমণ তুলে আনেন অভিষেক সিং টেকচাম। দু’জন উরুগুয়ের মিডফিল্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত ড্রিবলিং করে বল এগিয়ে দেন। এরপর রায়ান উইলিয়ামস বক্সের বাইরে থেকে শট নিলেও তা আটকে যায়। ফিরতি বলে অনওয়ার আলি শট নেন, কিন্তু বল চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। ৯ মিনিটে উরুগুয়ের ভুল থেকে ফের সুযোগ পায় ভারত। আপুইয়া বল কেড়ে নিয়ে রায়ান উইলিয়ামসের সঙ্গে আক্রমণ গড়েন। রায়ানের পাস থেকে এডমুন্ড লালরিন্দিকা গোলের দিকে এগিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে উরুগুয়ের ডিফেন্ডার দুর্দান্ত ট্যাকলে বিপদ কাটান। এরপর ১০ মিনিটে ভারতীয় বক্সে প্রামভীর সিংয়ের স্লাইডিং চ্যালেঞ্জকে ফাউল বলে পেনাল্টি দেন রেফারি। ১২ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করেন নুনেজ। গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু এক দিকে ঝাঁপালেও বল চলে যায় অন্য দিকে। তবে গোল খাওয়ার পরও ভারত ভেঙে পড়েনি।
বরং গোল হজমের পর আরও তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে ওঠে ভারত। ১৫ মিনিটে উরুগুয়ের আক্রমণ থেকে বাঁচলেও ভারতীয় রক্ষণকে স্বস্তি দেয়নি প্রতিপক্ষ। নুনেজের সঙ্গে ওয়াল পাস খেলে ম্যাক্সি আরাউহো বক্সের সামনে থেকে দুরন্ত শট নেন, কিন্তু বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সেই বিপদ কাটিয়ে আবার ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ভারত। ২২ মিনিটে এল সেই কাঙ্ক্ষিত সমতা। রায়ান উইলিয়ামসের শট কারদোজো বাঁচালেও ফিরতি বলের জন্য তৈরি ছিলেন থাপা। সুযোগ নষ্ট না করে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন ভারতীয় মিডফিল্ডার। যুবভারতীতে তখন উৎসবের আবহ। ২৫ মিনিটে এডমুন্ড লালরিন্দিকার কাছেও ভারতকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ এসেছিল। বক্সের মধ্যে বল পেয়েও সতীর্থকে পাস না করে নিজেই শট নিতে যান তিনি। পড়ে গেলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি। এভাবেই ৩০ মিনিট পর্যন্ত ১-১ অবস্থায় জমে ওঠে ম্যাচ। ঠিক তখনই প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পর বজ্রপাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় দুই দলের ফুটবলারকে সাজঘরে পাঠানো হয়।
ভারতের এই ম্যাচটি ছিল আন্তর্জাতিক বিরতিতে একগুচ্ছ বড় দলের বিরুদ্ধে খেলা প্রীতি ম্যাচের শেষ অধ্যায়। এর আগে পানামার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করেছিল ভারত। তারপর ব্রাজিলের কাছে ০-৪ গোলে হারলেও লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছিল খালিদ জামিলের দল। উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও শুরুতে সেই আত্মবিশ্বাসই দেখা যাচ্ছিল। বিশ্বকাপজয়ী দলের বিরুদ্ধে মাঠে ছিলেন নুনেজ, রদ্রিগো বেনতানকুর, ম্যাক্সি আরাউহো এবং হোসে মারিয়া হিমেনেসের মতো তারকারা। উরুগুয়ের কোচ আবার প্রাক্তন তারকা দিয়েগো ফোরলান। ফলে প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে কোনও সংশয়ই ছিল না। তার মধ্যেই ১-১ করে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে, বড় দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস হারায়নি তারা। এখন নজর ম্যাচ ফের শুরু হয় কি না এবং ভারত এই ঐতিহাসিক লড়াই শেষ পর্যন্ত নিজেদের পক্ষে টানতে পারে কি না।
