‘এক দেশ, এক ভোট’ বা ‘One Nation, One Election ব্যবস্থা ২০২৯ সাল থেকেই কার্যকর হতে পারে— এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু করলেন জেপিসির চেয়ারম্যান এবং বিজেপি সাংসদ পি পি চৌধুরী। গোয়ায় দু'দিনের বৈঠক শেষে তিনি জানান, এখনও ২০২৯ সালের মধ্যে এই নীতি কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে এবং দেশের অধিকাংশ মানুষও দ্রুত এই ব্যবস্থা চালুর পক্ষে মত দিচ্ছেন।
বর্তমানে ‘এক দেশ, এক ভোট’ সংক্রান্ত বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির বিবেচনাধীন। কমিটি প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত সংগ্রহ করছে। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন পি পি চৌধুরী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগে তিনিই জানিয়েছিলেন যে ২০৩৪ সালের আগে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব নয়। তবে এবার তাঁর বক্তব্যে এসেছে স্পষ্ট পরিবর্তন। চৌধুরী জানিয়েছেন, যৌথ সংসদীয় কমিটি চেষ্টা করছে সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগেই তাদের রিপোর্ট জমা দিতে। যদি তা সম্ভব হয়, তাহলে সেই অধিবেশনেই ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিলটি সংসদে পেশ করা হতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ২০২৯ সাল থেকেই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিক সমাজের প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রতিনিধি এই ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “এক দেশ, এক ভোট চালু হলে প্রত্যক্ষভাবে অন্তত ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। এই অর্থ দেশের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার সুফল পাবে।”
প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, ‘এক দেশ, এক ভোট’ ব্যবস্থা দুটি ধাপে কার্যকর করা হবে। প্রথম ধাপে লোকসভা এবং দেশের সমস্ত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলির নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, বর্তমানে বিভিন্ন সময়ে শেষ হওয়া রাজ্য বিধানসভাগুলির মেয়াদ কীভাবে একসঙ্গে আনা হবে? এই প্রসঙ্গে পি পি চৌধুরী জানান, আইন কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ কমিয়ে বা বাড়িয়ে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কোনও রাজ্যের নির্বাচন ২০৩০ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে হওয়ার কথা থাকে, তাহলে সেখানে একবারের জন্য স্বল্পমেয়াদি বিধানসভা গঠন করা হতে পারে, যাতে পরবর্তী নির্বাচন লোকসভার সঙ্গে একযোগে করা যায়। তাঁর মতে, আগে থেকেই যদি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় যে কোনও বিধানসভার মেয়াদ এক, দুই বা তিন বছর হবে, তাহলে তা নিয়ে সাংবিধানিক বা রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা থাকবে না।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যের নির্বাচনী সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ২০৩১ সালে নির্ধারিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সেক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি মেয়াদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যাতে পরবর্তী নির্বাচন লোকসভার সঙ্গে একযোগে করা সম্ভব হয়।