নিউজ ডেস্ক: বিজেপিতে যোগদান নিয়ে দলের অন্দরেই এবার তীব্র আপত্তি! তৃণমূলের দুই নেতা উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে নেওয়া হলে রাজ্য দফতরের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
টিভি৯ বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভের দাবি, উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা যাওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই দুই নেতাকে দলে নেওয়া হলে বিজেপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
দলের কাছে কৌস্তভের আর্জি
কৌস্তভ বাগচী বলেন, উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপির লোকজনের সঙ্গে দেখে ব্যারাকপুরের মানুষ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “এটা ভালো ছবি হচ্ছে না। জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।” দলের কাছে হাতজোড় করে তাঁর আবেদন, ওই দুই নেতাকে যেন বিজেপিতে যোগদান করানো না হয়।
এর পরেই আরও কড়া অবস্থান নেন তিনি। কৌস্তভের বক্তব্য, এই দুই নেতাকে দলে নেওয়া হলে বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলের রাজ্য দফতরের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। নিজের রাজনৈতিক দৃঢ়তার কথা তুলে ধরে অতীতে দীর্ঘ সময় মাথা কামিয়ে থাকার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন বিধায়ক।
পালাবদলের পর দলবদল ঘিরে বিতর্ক
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদানের ঘটনা সামনে এসেছে। ব্যারাকপুরেও সেই যোগদান পর্ব ঘিরে আলোচনা চলছে। এবার উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েই প্রকাশ্যে আপত্তি জানালেন কৌস্তভ। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই যোগদানকে ঘিরে দলের ভাবমূর্তি ও স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
কেন মাথা কামিয়ে ছিলেন কৌস্তভ?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়েছিলেন কৌস্তভ বাগচী। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি জানিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতা থেকে না সরলে মাথায় চুল রাখবেন না। সেই প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী দীর্ঘদিন মাথা কামিয়ে ছিলেন তিনি। বর্তমানে বিজেপির বিধায়ক কৌস্তভের সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
তবে উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে নেওয়ার বিষয়ে দলের তরফে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কৌস্তভের এই হুঁশিয়ারির পর বিজেপির নেতৃত্ব কী প্রতিক্রিয়া জানায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




