নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদলের জল্পনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। তারই মধ্যে আচমকা পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এল মুরুগান। মঙ্গলবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিজেপির এই নেতা। তবে তাঁর পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি? এর পিছনে কি শুধুই দলীয় কাজের পরিকল্পনা, নাকি রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ?
সূত্রের খবর, পূর্ণ সময় দলের কাজে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মুরুগান। বিশেষ করে নিজের রাজ্য তামিলনাড়ুতে ফিরে সাংগঠনিক কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে তাঁর বক্তব্য, দলের কাজ আরও সক্রিয়ভাবে সামলানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও তাঁর পদত্যাগের পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সামনে একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিজেপি সাংগঠনিক স্তরে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, এমন রাজ্যের নেতাদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে মুরুগানের ইস্তফা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
কে এই এল মুরুগান?
এল মুরুগান কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের ৭ জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তাঁর যাত্রা শুরু। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার আগে তামিলনাড়ুতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। রাজ্যে দলের সংগঠন মজবুত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
মুরুগান নিজেও সমাজের সাধারণ স্তর থেকে উঠে এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পাওয়াকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। শ্রমিক পরিবারের সন্তান থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতাকেও বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।
তবে এখন তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তামিলনাড়ুতে বিজেপির সংগঠন আরও শক্তিশালী করতেই কি তাঁকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে? নাকি আসন্ন নির্বাচনের আগে দলের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত? আপাতত এই প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি। মুরুগানের পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ল।
