ম্যাকে, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ডারউইনের গৌরবকে ঢেকে দিল ম্যাকের লজ্জা। ব্যাটিং-বোলিং—কোনও বিভাগেই অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়াতে পারল না বাংলাদেশ। ফলে দেড় দিনেরও কম সময়ে ইনিংস এবং ৫১ রানের এক দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল অজিরা। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউটের পর রবিবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ মাত্র ৯৫ রানেই। অর্থাৎ দুই ইনিংসের একটিতেও তিন অঙ্কে পৌঁছতে পারল না নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
শনিবার ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের উপর চাপ বাড়াতে থাকে অজিরা। প্রথম ইনিংসে মিচেল স্টার্কের দাপটের সামনে বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি সফরকারীরা। আগের টেস্টে ডারউইনে যে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিল বাংলাদেশ, ম্যাকেতে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় দল। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে রান তোলার সুযোগই তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর বল হাতেও সেভাবে কোনও দিশা খুঁজে পায়নি টাইগাররা। শরিফুল ইসলাম ৪৮ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট নিলেও ২১০ রানে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। সব মিলিয়ে ১৪৬ রানে এগিয়ে গিয়েছিলেন প্যাট কামিন্সরা। এই জায়গা থেকে ম্যাচে ফিরে আসতে হলে দরকার ছিল একটা ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের। কিন্তু ব্যাটিং-বিপর্যয়ের ছবিটা বদলাল না দ্বিতীয় ইনিংসেও। শনিবার ৬ উইকেটের পর এ দিনও ৩৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক। সব মিলিয়ে ১০ উইকেট দুই ইনিংসে। এ ছাড়া ৩টি করে উইকেট অধিনায়ক কামিন্স এবং নাথন লিঁওর।
এই ত্রয়ীর সামনে দুটি ইনিংসেই অন্ততঃ ১০০ রানের গণ্ডি পেরোতে ব্যর্থ বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় দিন চা-পান বিরতির পর প্রথম ওভারেই শেষ ম্যাচ। অবশ্য এর পরেও যে এই সিরিজ বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নেবে তা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি নিঃসন্দেহে হতাশার। তবে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে সিরিজ ১-১ ড্র করে ফিরতে পারাও যে একটি বড় প্রাপ্তি তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে?