উত্তরাখণ্ড, গুজরাট, অসম - বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার কথা ঘোষণা করল। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানালেন দ্রুত মধ্যপ্রদেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হবে। বিধানসভায় ইতিমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাশ হয়ে গিয়েছে। শুধু কার্যকর হওয়াই বাকি। রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে গত ২১শে জুলাই ইউসিসি বিল পাশ হয়েছে বিধানসভায়। কংগ্রেস প্রবল বিরোধিতা করে এই বিলটির। তবে বিজেপির সংখ্যাবলে সেটি পাশ হয়ে যায়।
বিল পেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, ‘মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় এক সোনালী ইতিহাস রচিত হতে চলেছে। তবে কংগ্রেস তাদের তোষণের রাজনীতির জন্য এই বিলের বিরোধিতা করছে। এবং এটিকে আদিবাসী-বিরোধী বলে আখ্যা দিচ্ছে।’ পাশ হওয়া এই বিলে ‘তিন তালাক’ ও ‘বহুবিবাহ’ নিষিদ্ধকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও সব ধর্মের মানুষের অভিন্ন বিবাহ এবং বিচ্ছেদ আইন গ্রাহ্য হবে। একই সঙ্গে ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কের জন্যও নিয়মকানুন নির্ধারিত ক হয়েছে। উল্লেখ্য ভাবে রয়েছে এক মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন।
বিলটি বিধানসভায় পাশ হলেও এখনও কার্যকর হয়নি।তবে, শনিবার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান থেকেই দ্রুত ওই আইন কার্যকর করার কথা ঘোষণা করছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। এদিন তিনি বলেছিলেন, 'ভগবান শ্রীরাম থেকে শ্রীকৃষ্ণ, সকলেই সাম্যের বার্তা দিয়েছেন। সেই বার্তাকে সামনে রেখেই রাম ও রহিম সকলের জন্য এক আইন কার্যকর হবে।' একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন- 'সংবিধানের ৩৪২ ও ৩৬৬ (অনুচ্ছেদ ২৫)-র আওতাভুক্ত তফসিলি উপজাতিদের ক্ষেত্রে এই বিল প্রযোজ্য হবে না।'
প্রসঙ্গত বলা যায়, এক দেশে- 'দুই নিশান দুই বিধান' হতে পারে না। একারণে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে এই নীতি কার্যকর করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে, ভারতীয় সংবিধানের ৪৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষ দেশে যে কোনও ব্যক্তি তার পছন্দের ধর্ম অনুযায়ী আচরণ করতে পারে। বিভিন্ন ধর্ম অনুসারে আলাদা আইনও রয়েছে। তাই একই ঘটনার প্রেক্ষিতে দুই ভিন্ন ধর্মের ব্যক্তি আইনের চোখেও ভিন্ন বিচার পান। মধ্যপ্রদেশে সেই ব্যবস্থাকেই বদলে সকলের জন্য অভিন্ন দেওয়ান বিধি কার্যকর করতে তৎপর হয়েছে।