কলকাতা: রাত পোহালেই মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার এই বিশেষ দিনে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করতে রাজ্যের বিভিন্ন নদীঘাটে ভিড় জমাবেন অসংখ্য মানুষ। সেই ভিড় সামাল দিতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগেভাগেই সতর্ক রাজ্য প্রশাসন। নদীঘাটের নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উদ্ধার ব্যবস্থা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের জারি করা ১২ দফা নির্দেশিকায় স্পষ্ট, প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনও রকম খামতি রাখা চলবে না।
কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া-সহ রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নদীঘাটগুলিতে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বড় ঘাটে একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি, ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন।
ভোর ৩টে থেকেই মোতায়েন ডুবুরি ও উদ্ধারকারী দল
মহালয়ার দিন দুর্ঘটনা এড়াতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উদ্ধার ব্যবস্থায়। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর ভোর ৩টে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নদীঘাটগুলিতে প্রশিক্ষিত ডুবুরি, উদ্ধারকারী নৌকা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন রাখতে হবে। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, দড়ি ও অন্যান্য উদ্ধার সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখতে হবে। নদীর গভীর অংশে যাতে পুণ্যার্থীরা ঢুকে না পড়েন, তার জন্য বিশেষ ব্যারিকেড ও সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘাটের সিঁড়ি, নদীর পাড় ও সংলগ্ন রাস্তায় জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানীয় জল, অস্থায়ী শৌচাগার এবং মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য পৃথক সুরক্ষিত কক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে। পিচ্ছিল সিঁড়িতে দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক প্রচার এবং নিরাপত্তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত পুলিশ, প্রস্তুত থাকবে অ্যাম্বুল্যান্স
মহালয়ার দিন ভোর ৩টে থেকে ঘাট, সংলগ্ন রাস্তা ও পার্কিং এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলের কাছে বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক সংযোগ রাখা যাবে না। ভিড় নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও মহিলা পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ব্যস্ত ঘাটগুলিতে প্রবেশ ও বেরোনোর জন্য পৃথক পথ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে একমুখী যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে। বড় ঘাটগুলিতে প্রাথমিক চিকিৎসার শিবির এবং অতিরিক্ত ভিড়ের জায়গায় অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখার নির্দেশ রয়েছে। নিকটবর্তী হাসপাতালগুলিকেও জরুরি পরিস্থিতির জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নজরদারিতে বিশেষ কন্ট্রোল রুম
৯ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকেই প্রতিটি জেলা, পুলিশ কমিশনারেট এবং কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের জরুরি পরিচালন কেন্দ্রের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাতে হবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষ ও রেলের অধীনস্থ ঘাটগুলিতেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে নবান্ন।
মহালয়ার তর্পণকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই তৎপরতা। এখন নজর, নির্দেশিকা মেনে রাজ্যের নদীঘাটগুলিতে নিরাপত্তা ও পরিষেবা কতটা নিশ্চিত করা যায় তার দিকে।