মুর্শিদাবাদ: উপনির্বাচনের গণনায় চমক রেজিনগরে। একটি বুথে একটিও ভোট পেলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। নির্বাচন কমিশনের বুথভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, রেজিনগরের ২০ নম্বর বুথে তাঁর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা শূন্য। দীর্ঘদিনের বিধায়ক, অথচ নিজের নির্বাচনী লড়াইয়ে একটি বুথে খাতা খুলতেই পারলেন না—এই পরিসংখ্যান ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।
তবে একটি বুথে শূন্য ভোট পাওয়ার অর্থ গোটা কেন্দ্রে শূন্য ভোট পাওয়া নয়। গণনার তিন রাউন্ড শেষে রবিউল আলম চৌধুরী পেয়েছেন মোট ৫৩৩টি ভোট।
তিন রাউন্ডের হিসাব কী বলছে?
রেজিনগর উপনির্বাচনের তিন রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭,৯৫১টি ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবি আজাদ, তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৪,২৪৪। কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি পেয়েছেন ৪১৪টি ভোট। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ পেয়েছেন ১৯৫টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সৈয়দ পেয়েছেন ১৭৫টি ভোট। অন্যদিকে, মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর ঝুলিতে রয়েছে ৫৩৩টি ভোট।
এই পরিসংখ্যানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ২০ নম্বর বুথে রবিউলের শূন্য ভোট। তবে তিন রাউন্ডের এই হিসাবকে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
কে এই রবিউল আলম চৌধুরী?
রবিউল আলম চৌধুরী একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২৬ সালের উপনির্বাচনেও তাঁকেই প্রার্থী করেছিলেন মমতা।
কিন্তু এবারের নির্বাচনের আগে তাঁর প্রার্থিপদ ঘিরে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। ১৯ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ এবং নতুন নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিলেন তিনি। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মাত্র দু’ঘণ্টার মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকার কথা জানান।
ভোটের পরেও উঠেছিল কারচুপির অভিযোগ
ভোটগ্রহণের দিন সকালে ভোট দিলেও রবিউলকে সেভাবে প্রচারের আলোয় দেখা যায়নি। ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর রিটার্নিং অফিসারের কাছে চিঠি দিয়ে রেজিনগরে ভোট লুট ও কারচুপির অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি, সমস্ত বুথের ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানান।
এবার গণনার সময় একটি বুথে তাঁর প্রাপ্ত ভোট শূন্য হওয়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে এই একটি বুথের ফলাফল থেকেই গোটা কেন্দ্রের ভোটারদের মনোভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। রেজিনগরের নির্বাচনী লড়াইয়ে পরবর্তী গণনায় কী ছবি উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর।