কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: দিল্লির পর এবার কলকাতাতেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুর ২ টোয় কলকাতার রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত ‘বিপুল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে খবর। এই মিছিলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অংশ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। এই মর্মে একটি প্রচারপত্র প্রকাশ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। তবে কর্মসূচির জন্য কলকাতা পুলিশের অনুমতি মিলবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কালীঘাট তৃণমূলের তরফে মঙ্গলবার মিছিলের ডাক দিয়ে একটি প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তোলা হয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবিও তোলা হবে মিছিল থেকে। দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আটক হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানানোও এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও তরুণ প্রজন্মের উপর দমনপীড়ন চালানোর অভিযোগ তুলেও সরব হতে চায় তৃণমূল।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল গোটা দেশ। মঙ্গলবারের মিছিলকে সফল করতে সোমবার থেকেই কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় প্রচার শুরু করেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। ছাত্র, যুব, মহিলা ও শ্রমিক সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ দলীয় কর্মী-সমর্থকদেরও রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত এই মিছিল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, দুর্গাপুজোর মরসুমে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় মানুষের ভিড় বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দুপুরের ব্যস্ত সময়ে মিছিল হলে যান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। এখন দেখার বিষয় কলকাতা পুলিশ আদৌ অনুমতি দেয় কি না।
গত ১০ অক্টোবর বিরাট প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিক বিরোধী নেতা ও কর্মীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে আটক করা হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আটক হন দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, প্রতিমা মণ্ডলরাও। সাউথ অ্যাভিনিউয়ে মমতা তাঁর বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন। মমতাকে ধর্না প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও তিনি রাজি হননি। এর পরেই দিল্লি পুলিশের ফোর্স এসে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তোলে। এবার কলকাতার রাজপথে নামতে চলেছে মমতাপন্থী তৃণমূল।
