গল, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: গল টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ এগিয়ে গিয়েছে ভারত। আর এই জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর ২৪ বছরের বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথার। তাঁর ঘূর্ণির সামনে কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ১০ উইকেট নিয়ে ক্রিকেট মহলে নিজের নামটা বেশ জোরেই জানান দিয়েছেন সুথার। তবে শুধু সংখ্যার বিচারে নয়। যে ভাবে তিনি বল করেছেন, তাতে যেন বহু দিন পর ধ্রুপদী টেস্ট স্পিনের পুরনো ছবিটাও ফিরে এল ভারতীয় ক্রিকেটে।
গলের পিচে সুথারের অস্ত্র কোনও একটিমাত্র বিশেষ ডেলিভারি ছিল না। বাতাসকে কাজে লাগিয়ে বলকে দু’দিকেই ভাসিয়েছেন। ব্যবহার করেছেন ওভারস্পিন। কখনও গতি কমিয়েছেন, কখনও বাড়িয়েছেন। অথচ বোলিং অ্যাকশনে তার ছাপ পড়তে দেননি। একই জায়গায় বার বার বল ফেলে ব্যাটারকে ভুল করার জন্য অপেক্ষা করেছেন। তাঁর বলের বাউন্স এবং ড্রিফট দুই-ই সমস্যায় ফেলেছে শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের। ফলে উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা ঋষভ পন্থের কাছে বল পৌঁছনোর আগেই ব্যাটারদের পায়ের নড়াচড়ায় দেখা দিয়েছে দ্বিধা।
এই পারফরম্যান্সের জেরে একটি বড় পরিসংখ্যান জুড়ে গিয়েছে তাঁর নামের পাশে। তিনিই সপ্তম ভারতীয় স্পিনার যিনি বিদেশের মাটিতে টেস্টে এক ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন। সুথারের আগে এই তালিকায় ছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, বিষেণ সিং বেদী, এরাপল্লি প্রসন্ন, ভগবত চন্দ্রশেখর, অনিল কুম্বলে এবং হরভজন সিংহ। এদিকে সুথার এই ঐতিহ্যবাহী তালিকায় ঢুকে পড়লেন মাত্র ২৪ বছর বয়সেই। এই বয়সেই এমন কৃতিত্ব যে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা আরও বাড়াবে তাতে সন্দেহ নেই।
ভারতের লাল বলের ক্রিকেটে এই মুহূর্তে যখন একাধিক প্রশ্ন এবং অনিশ্চয়তা বাসা বেঁধেছে, তখন গলে সুথারের পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে একজন বাঁহাতি স্পিনার কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য এবং বৈচিত্রের মিশেলে ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন, তারই যেন পাঠ দিলেন তিনি। শুধু উইকেট নেওয়া নয়। দীর্ঘ সময় ধরে একই জায়গায় বল করে চাপ তৈরি করাই ছিল তাঁর সাফল্যের আসল রহস্য। গলের এই ১০ উইকেট তাই নিছক একটি ব্যক্তিগত কীর্তি নয়। ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে ধ্রুপদী স্পিনের পুরনো সৌন্দর্য যে এখনও হারিয়ে যায়নি, তারই জোরালো প্রমাণ।