মেসি-কাণ্ডে আপাতত অনেকটাই স্বস্তিতে অরূপ বিশ্বাস। মঙ্গলবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর ‘রক্ষাকবচ’-এর মেয়াদ বাড়াল কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অরূপকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। এর আগে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত ছিল তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ। এ দিন আদালতে রাজ্য পুলিশের ডিআইজির রিপোর্টও জমা পড়ে।
গত ডিসেম্বরে যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তদন্ত চলছে অরূপের বিরুদ্ধে। এই তদন্তে অরূপকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে বলে আগেই জানিয়েছিল আদালত। অর্থাৎ পুলিশি নোটিসে সাড়া না দিলে সেই বিষয়টি আদালতের নজরে আনতে পারবে তদন্তকারী সংস্থা। পাশাপাশি, আদালতের অনুমতি ছাড়া অরূপ বিশ্বাস নিজের এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর এই সমস্ত শর্তসাপেক্ষেই 'রক্ষাকবচ' দেওয়া হয় অরূপকে। এ বার তারই মেয়াদ বাড়ানো হল আরও ৩ মাস।
ঘটনার দিন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসিকে দেখতে সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উপচে পড়েছিল ভিড়। বিপুল সংখ্যক দর্শক টিকিট কেটে হাজির হয়েছিলেন মাঠে। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মেসি। দেশের আরও তিন শহরে একই ধরনের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে হলেও কলকাতার অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনায় শহরের সম্মানহানি হয়েছে বলেও পর্যবেক্ষণ করেছিল আদালত। এর আগে বিচারপতি প্রশ্ন করেছিলেন, অরূপ কি মেসির বাল্যবন্ধু? মেসির এত কাছে কেন গিয়েছিলেন তিনি? অন্য শহরে অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ভাবে হলেও কলকাতায় কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তাও জানতে চেয়েছিল আদালত।
মেসি-কাণ্ডে অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। অরূপ বিশ্বাস-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় মামলা হয়। শতদ্রুর আইনজীবী আদালতে দাবি করেছিলেন, ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল এবং অরূপ একাই তাঁর বিধানসভা এলাকার জন্য ২২ হাজার টিকিট নিয়েছিলেন।
এমনকি বেশ কিছু ক্লাবকে অরূপ টিকিট বিক্রি করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। গ্রেফতারের আশঙ্কায় এর পর হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অরূপ। তাঁর হয়ে আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করেন। আপাতত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সেই ‘রক্ষাকবচ’ই বহাল রাখল আদালত।