নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দিলেন এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদ। এনডিএ-র অন্যান্য সাংসদদের পাশাপাশি এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল-সহ দলের অন্যান্য প্রতিনিধিরা। বৈঠকে সাংসদদের সঙ্গে দেশের উন্নয়ন, সংসদীয় এলাকার কাজ এবং জনসংযোগ নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পঠানের উপস্থিতি। গত কয়েক দিন ধরে তাঁদের নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছিল। তাঁরা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, বিজেপি বা এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁদের নেই। এমনকি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এনডিএ-র আগের বৈঠকেও তাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তাঁদের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে আবু তাহের জানান, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেছেন। এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, বৈঠকের পর একাধিক সাংসদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় আরও বেশি সময় দিয়ে উন্নয়নের কাজে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকার বার্তাও দেন তিনি। চল্লিশ বছরের বেশি বয়সিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং যোগব্যায়াম করার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।
উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক সাংসদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন এবং মানুষের পাশে থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, দেশের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যাওয়ার আগে এনসিপিআই সাংসদরা প্রথমে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ের বাসভবনে একত্রিত হন। সেখান থেকে একটি বাসে করে তাঁরা ৭, লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে পৌঁছন। রাজনৈতিক মহলে এই বৈঠক এবং বিশেষ করে তিন 'বেসুরো' সাংসদের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হলেও, তাঁদের পক্ষ থেকে এখনও দলবদল নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।