গজলডোবা, নিউজ ডেস্ক: সোমবার সকালে তিস্তার বুক জুড়ে তখন তীব্র জলস্রোত। নদীর এপার-ওপারে চলছিল স্বাভাবিক ব্যস্ততা। আচমকায় নদীর তীব্র জলশ্রোত যেন বদলে দিল একটি ছোট্ট প্রাণের ভাগ্য। বহুদূর ভেসে যাওয়ার পর তাকে ঘিরে শুরু হল উদ্ধারের তৎপরতা। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান হল এমন এক দৃশ্যে, যা দেখে আবেগে চোখ ভিজেছে প্রত্যক্ষদর্শীদের।
জলপাইগুড়ির গজলডোবা সংলগ্ন তিস্তা নদীতে ভেসে যাওয়া একটি হস্তিশাবককে উদ্ধার করলেন কয়েকজন মৎস্যজীবী। পরে, বন দফতরের তৎপরত তাই হস্তি শাবকটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের উদ্যোগ এবং বনকর্মীদের তৎপরতায় মা ও শাবকের এই পুনর্মিলন এখন এলাকায় মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। সূত্রে খবর, সোমবার সকালে মা হাতির সঙ্গে নদী পার হচ্ছিল ছোট্ট হস্তি শাবকটি। সেই সময় আচমকায় নদীর তীব্র জলস্রোতে ভেসে যায় সে। নদীর তীব্র স্রোতে সেতুর নিচ দিয়ে ভেসে অনেকটা চলে যায় সে। শেষ পর্যন্ত জলপাইগুড়ির কাঠামবাড়ী-পারক্রান্তি এলাকায় পৌঁছে যায় শাবকটি।
এরপর পাঞ্জাব বাঁধের কাছে ১২ নম্বর স্পারের সংলগ্ন নদীতে কিছু জন মৎস্যজীবীর নজরে আসে হস্তি শাবকটি। নদীর প্রবল স্রোত উপেক্ষা করে তাঁরা নৌকো নিয়ে এগিয়ে যান। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করেন অসহায় ছোট্ট হস্তি শাবকটিকে। পরে, তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বৈকন্ঠপুর বনবিভাগের কাঠামবাড়ি রেঞ্জ অফিসে। সেখানে বনকর্মীরা শাবকটির প্রাথমিক চিকিৎসা ও শুশ্রূষার ব্যবস্থা করেন।
এরপর বন দফতরের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শাবকটিকে ফের গজলডোবা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ বনকর্মীরা জানতে পারে যে তার মা হস্তি আশেপাশেই রয়েছে। একটি নিরাপদ জায়গায় শাবকটিকে রেখে দূরত্ব বজায় রেখে নজরদারি রাখেন বৈকুন্ঠপুর বনবিভাগের রেঞ্জের একাধিক বনকর্মীরা। অপেক্ষা শুরু হয় মা হস্তির ফিরে আসার। প্রায় দুই ঘন্টার পর সেই অপেক্ষার অবসান হয়।
দূর থেকে মা হস্তিকে এগিয়ে আসতে দেখতে পাওয়া যায়। ধীরে ধীরে সে তাঁর শাবকের কাছে পৌঁছে যায়। তারপর চোখে পড়ে আরও আবেগ ঘন মুহূর্ত। মানুষের স্পর্শ পাওয়া নিজের সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার আগে মা হাতিটি শাবকটিকে স্নান করিয়ে নেয় বলে জানা গিয়েছে। এরপর সাবকটিকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলের দিকে ফিরে যায় মা হাতি। তিস্তার প্রবল স্রোতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মা ও সন্তানের এই পুনর্মিলন শুধুমাত্র একটি বন্যপ্রাণী উদ্ধারের ঘটনা নয় বরং মানবিকতা এবং বন দফতরের দায়িত্বশীলতার এক অনন্য নজির হয়ে রইল।