নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ফের চাপ বাড়াচ্ছে চিনি। গোটা দেশে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে চিনির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার পর কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে নতুন পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার বাণিজ্য এবং শিল্প মন্ত্রকের তরফে জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিদেশ থেকে আমদানি করা চিনি দু’মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত করে খোলা বাজারে বিক্রি করতে হবে।
এর আগে কেন্দ্র জানিয়েছিল, আমদানি করা চিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত বা পরিশোধন করে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বাজারে ছাড়তে হবে। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নিয়ম আরও কড়া করে দু’মাসের মধ্যে আমদানি করা চিনি বাজারে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বণিকমহলের একাংশ।
বৃষ্টির কারণে আখচাষে ক্ষতি এবং জোগানের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়াকেই সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসাবে মনে করা হচ্ছে। চলতি চিনি অর্থবর্ষের শুরুতে উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। ‘ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ প্রাথমিক ভাবে আগের অর্থবর্ষের তুলনায় উৎপাদন ১৮.৩ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল।
সেই হিসাবের ভিত্তিতে চলতি অর্থবর্ষের শুরুতে চিনি রফতানিতেও ছাড় দিয়েছিল কেন্দ্র। গত নভেম্বরে ১৫ লক্ষ টন এবং ফেব্রুয়ারিতে আরও পাঁচ লক্ষ টন চিনি রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু মে মাসে উৎপাদন সংক্রান্ত পূর্বাভাস বদলে যায়। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। জুলাইয়ে চিনিকলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো হয়। অগস্টে মাসিক চিনি বিক্রির পরিমাণ ২২.৫ লক্ষ টনে বেঁধে দেয় কেন্দ্র।
এদিকে চিনির বাজারে টানাপড়েনের সঙ্গে ইথানল বিতর্কও জড়িয়ে পড়েছে। পেট্রলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানোর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। চিনি ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, চলতি বছরে ৩২ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি ইথানল তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এর ফলে খাদ্যসুরক্ষায় প্রভাব পড়ছে। যদিও কেন্দ্রের দাবি, চিনির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে ই-২০ পেট্রলের কোনও সম্পর্ক নেই। খাদ্য মন্ত্রকের মতে, ইথানল তৈরিতে চিনির ব্যবহারও কমেছে।
পরিস্থিতির মোকাবিলায় এক দশকেরও বেশি সময় পর বিদেশ থেকে চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লক্ষ টন চিনি কোনও শুল্ক ছাড়াই আমদানি করা যাবে। নতুন নির্দেশের ফলে বাজারে জোগান বাড়িয়ে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে কি না, এখন সেটাই দেখার।