রুশ জ্বালানি কেনা নিয়ে যখন ভারতকে ঘিরে মার্কিন চাপ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। শনিবার রাতে হওয়া এই ফোনালাপে ভারত-মার্কিন সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারি আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।
ফোনালাপের পর সমাজমাধ্যমে মোদী জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের ফোন পেয়েছেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ভারত ও আমেরিকার সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিও আলোচনায় উঠে আসে। তবে এই ফোনালাপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
কারণ, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরও কড়া করার লক্ষ্যে একটি বিল সম্প্রতি মার্কিন সেনেটে চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে পাস হয়েছে। ওই প্রস্তাব আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল-সহ জ্বালানি কেনা দেশগুলির উপর বিপুল হারে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবিত শুল্কের হার সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
শুক্রবার মার্কিন সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে প্রক্রিয়াগত একটি ভোটেও বিপুল সমর্থন পেয়েছিল বিলটি। এবার সেটি মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ, হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসে যাবে। দুই কক্ষেই অনুমোদন মিললে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরই তা আইনে পরিণত হতে পারে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য করা দেশগুলির উপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি, রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি পরোক্ষভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ যুদ্ধকে অর্থনৈতিকভাবে সমর্থন করছে। ফলে ভারত, চিন-সহ রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলি এই প্রস্তাবের আওতায় পড়তে পারে। তবে ফোনালাপে শুল্ক প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশিত বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।




