স্পোর্টস ডেস্ক: একের পর এক ম্যাচে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। বল হাতে এখনও তাঁর ধার কমেনি। কিন্তু তাতেও জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলছে না মহম্মদ শামির জন্য। বরং সময় যত গড়াচ্ছে, ততই কঠিন হচ্ছে সেই প্রত্যাবর্তনের রাস্তা। এর মধ্যেই শামিকে নিয়ে বড় মন্তব্য করলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার দীনেশ কার্তিক। তাঁর দাবি, ভারতীয় দল কার্যত শামিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে। ফলে ভাল পারফরম্যান্স করলেও এখন আর তাঁকে ফেরানোর বিশেষ প্রয়োজন দেখছেন না কার্তিক। এমনকি নির্বাচক কমিটিতে অজিত আগরকার না থাকলেও শামিকে নিয়ে তাঁর অবস্থান বদলাবে না বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রাক্তন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। কার্তিকের এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে শামির জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শামিকে শেষ বার দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালে। তার পর থেকে কখনও চোট, কখনও ফিটনেস, আবার কখনও নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত—বিভিন্ন কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে বল হাতে নিয়মিত ভাল পারফরম্যান্স করে নিজের ফিটনেস এবং দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই পেসার। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের দুর্বলতাও চোখে পড়েছে। তিন ম্যাচের সিরিজ ভারত ২-১ ব্যবধানে জিতলেও বেশ কিছু জায়গায় বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই শামির অভিজ্ঞতাকে ফের কাজে লাগানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। কিন্তু কার্তিক সেই সম্ভাবনাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দলে এখন এমন কয়েক জন পেসার রয়েছেন, যাঁদের উপর ভারত ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।
কার্তিকের মতে, অর্শদীপ সিং, মহম্মদ সিরাজ এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণরা এখন ভারতীয় পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের পাশাপাশি গুরনূর ব্রার, আকিব নবী, অংশুল কম্বোজের মতো তরুণদেরও ধীরে ধীরে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে শামিকে ফিরিয়ে আনার বদলে নতুন প্রজন্মের পেসারদেরই তৈরি করার দিকে নির্বাচকদের নজর থাকা উচিত বলে মনে করেন কার্তিক। এক নামী ক্রিকেটীয় ওয়েবসাইটের এক আলোচনায় শামিকে নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, "ভারত ওঁকে পেরিয়ে এগিয়ে গিয়েছে। ফিরে যাওয়ার কোনও মানে নেই।" যদিও শামি ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল বল করছেন, সেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন কার্তিক। কিন্তু জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সেই পারফরম্যান্স যথেষ্ট নয় বলেই তাঁর মত। অর্থাৎ অভিজ্ঞতা এবং অতীত সাফল্যের চেয়ে এই মুহূর্তে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছে—কার্তিকের মন্তব্যে অন্তত তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে শামিকে নিয়ে এমন কড়া অবস্থান নিলেও ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মহাতারকা রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলিকে আরও কিছু দিন দেখতে চান কার্তিক। তাঁর মতে, আগামী বছরের এক দিনের বিশ্বকাপের পর যদি রোহিত ও কোহলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে যান, তার প্রভাব পড়বে গোটা ওয়ানডে ক্রিকেটেই। কারণ, তাঁরা শুধু ভারতীয় ক্রিকেটের নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেরও অন্যতম বড় মুখ। ভারত যেহেতু বিশ্ব ক্রিকেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, তাই দুই তারকার বিদায় এক দিনের ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন কার্তিক। ফলে একই সঙ্গে দু’টি আলাদা বার্তা উঠে এসেছে তাঁর কথায়—শামির ক্ষেত্রে ‘এগিয়ে যাওয়ার’ সময় এসেছে, কিন্তু রোহিত-কোহলির ক্ষেত্রে এখনও তাঁদের ধরে রাখার প্রয়োজন রয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই, ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভাল করেও কি সত্যিই জাতীয় দলের দরজা আর খুলবে না শামির জন্য?
