নেপাল, নিউজ ডেস্ক: শান্ত পাহাড়ি সকাল নিমেষের মধ্যে পরিণত হলো ধ্বংসের উপত্যকায়। তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা দানবীয় জলস্রোত ও আকস্মিক হড়পা বানে উত্তর নেপালে তৈরি হয়েছে চরম বিপর্যয়। বুধবার সকালে সীমান্ত লাগোয়া নদী ভোটে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর জলস্তর আচমকা উপচে পড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায় নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। জলের তীব্র তোড়ে ভেঙে পড়েছে একাধিক সেতু, নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে যোগাযোগকারী পাহাড়ি রাস্তা, আর তাসের ঘরের মতো ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, বাজার ও বহু যানবাহন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল নয়টা নাগাদ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়ঙ্কর গতিতে জল ঢুকতে শুরু করে টিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায়। প্রাণ বাঁচাতে বহু মানুষ উঁচু জায়গায় ছুটে গেলেও অনেকেই পালানোর সুযোগটুকু পাননি। রাসুয়ার আন্তর্জাতিক কাস্টমস চত্বর-সহ গোটা বাজার এলাকা এখন কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপে ঢাকা।
প্লাবনের তীব্রতায় নেপালের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোও কার্যত ভেঙে পড়েছে। চিলিমে, রাসুয়াগঢ়ী এবং ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে ত্রিশূলী-৩বি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাসুয়া-সহ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবেছে।
প্রশাসনের অনুমান, তিব্বত সীমান্তে মেঘভাঙা বৃষ্টি, অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে যাওয়া কিংবা হিমবাহ হ্রদ ফেটে যাওয়ার ফলেই এমন বিধ্বংসী হড়পা বান সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে দুর্যোগের ভয়াবহতায় উদ্ধারকাজেও চরম জটিলতা তৈরি হয়েছে। টিমুরের হেলিপ্যাডটি জলের তোড়ে সম্পূর্ণ তলিয়ে যাওয়ায় বেসরকারি হেলিকপ্টার সেখানে নামতে না পেরে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে নেপাল সেনার এমআই-১৭ হেলিকপ্টার চিকিৎসক ও জরুরি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
ধুনচে ও ত্রিশূলী থেকেও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে দুর্গত এলাকায় নামানো হয়েছে। বেশ কয়েকজন সশস্ত্র পুলিশকর্মীর খোঁজ মিলছে না এবং বহু মানুষ এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। ত্রিশূলী নদীর নিম্নাঞ্চল ও ধাদিং জেলাতেও লাল সতর্কতা জারি করে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের অবিলম্বে সুরক্ষিত স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।