নয়াদিল্লি: দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ফের বিতর্ক। এবার দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ তুললেন CPI(M)-এর রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস। রবিবারের বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন তিনি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় রাম মনোহর লোহিয়া (RML) হাসপাতালে। সেখানে তাঁর এক্স-রে-সহ শারীরিক পরীক্ষা করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
CPI(M)-এর তরফে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাসের সিঁড়িতে হঠাৎ পড়ে যাচ্ছেন জন ব্রিটাস। এরপরই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুকে কোনও আঘাত লেগেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই চিকিৎসকদের পরামর্শে পরীক্ষা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে কীভাবে তিনি আহত হয়েছেন, তা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
এই ঘটনার পরই সরব হন CPI(M) সাংসদ। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI)-কে চিঠি লিখেছেন তিনি। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন ব্রিটাস।
তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন দিল্লি পুলিশের কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাঁকে ধাক্কাধাক্কি করেন। এই ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনতে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। সাংসদের অভিযোগ, একজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এবং বিরোধীদের প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীদের আটক, পুলিশের পদক্ষেপ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তবে জন ব্রিটাসের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য এবং স্বাধীন তদন্তের ফলাফল এখনও সামনে আসেনি। ফলে পুলিশি হেনস্তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন দাবি করার অবকাশ নেই। এখন নজর রাষ্ট্রপতি, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ করা হয় এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকে।