বিশেষ প্রতিবেদন: কখনও ‘ক্রান্তিবীর’-এর আগুনঝরা সংলাপ, কখনও ‘ওয়েলকাম’-এর উদয় শেট্টির দুষ্টু হাসি—প্রয়াণের পর ফের ভাইরাল নানা পাটেকরের সেই সব দৃশ্য, সংলাপ আর মিম
নানা পাটেকর নেই। অথচ সামাজিক মাধ্যমে যেন আরও বেশি করে ফিরে আসছেন তিনি। কোথাও ‘ক্রান্তিবীর’-এর তীব্র, আগুনঝরা দৃশ্য। কোথাও ‘পরিন্দা’ বা ‘আব তক ছাপ্পন’-এর কঠিন চরিত্র। আবার কোথাও একেবারে অন্য মেজাজ—‘ওয়েলকাম’-এর উদয় শেট্টি। চোখে রাগ, গলায় দাপট, আর পরক্ষণেই এমন হাস্যরস যে দর্শকের হাসি থামার উপায় নেই।
৭৫ বছর বয়সে নানার পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমাজমাধ্যম ভরে উঠেছে তাঁর অভিনীত নানা দৃশ্য, সংলাপ ও মিমে। শোকের মধ্যেও তাঁকে মনে করার এই পদ্ধতিটা যেন নানার অভিনয়জীবনেরই সবচেয়ে সুন্দর প্রতিচ্ছবি—একই মানুষ একই সঙ্গে দর্শককে কাঁদাতে পারেন, আবার পরের মুহূর্তেই হাসিয়ে দিতে পারেন।
বিশেষ করে ‘ওয়েলকাম’-এর উদয় শেট্টি যেন নতুন করে ফিরে এসেছে। ‘কন্ট্রোল উদয়, কন্ট্রোল!’—এই সংলাপটি আজও দৈনন্দিন জীবনের নানা পরিস্থিতিতে মিম হয়ে ঘোরে। কখনও বন্ধুর রাগ সামলাতে, কখনও কোনও অদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মজা করতে—উদয় শেট্টির মুখভঙ্গি, সংলাপ এবং দৃশ্য যেন নেটপাড়ার নিজস্ব ভাষার অংশ হয়ে গিয়েছে।
নানা পাটেকরের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে উদয় শেট্টি নিঃসন্দেহে এক আশ্চর্য মোড়। এত দিন যাঁকে দর্শক দেখেছেন তীব্র, কঠিন, কখনও ভয় ধরানো চরিত্রে, সেই তিনিই ‘ওয়েলকাম’-এ হয়ে উঠেছিলেন হাসির অন্যতম বড় কারণ। অনিল কপূরের মজনু ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর রসায়ন ছবিটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছিল।
কিন্তু নেটপাড়ায় শুধু হাসির নানা নন। তাঁর প্রয়াণের পর সবচেয়ে বেশি ফিরে আসছে ‘ক্রান্তিবীর’-এর সেই বিখ্যাত দৃশ্যও। পর্দায় প্রতাপের চরিত্রে দাঁড়িয়ে সমাজের সামনে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেই দৃশ্যের তীব্রতা, চোখের আগুন এবং সংলাপ বলার ভঙ্গি আজও হিন্দি সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। তাঁর মৃত্যুর খবরের পর সেই দৃশ্য ফের ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
অদ্ভুত ব্যাপার, মৃত্যুর পর নানার পাটেকরের যে স্মৃতিগুলি ফিরে আসছে, তার মধ্যে গুরুগম্ভীর অভিনয়ের পাশাপাশি রয়েছে একেবারে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন হাসির মুহূর্তও। তাঁর মুখের অভিব্যক্তি, সংলাপের ওঠানামা, বিরতির পর হঠাৎ বিস্ফোরণের মতো কথা বলা—সবই যেন মিমের জন্য তৈরি। অথচ সেই মিমের আড়ালেও রয়েছে একজন অসাধারণ অভিনেতার কয়েক দশকের সাধনা।
‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি’, ‘আব তক ছাপ্পন’, ‘রাজনীতি’, ‘নটসম্রাট’—প্রতিটি ছবিতে নানার একেকটি মুখ। কোথাও তিনি ক্ষতবিক্ষত মানুষ, কোথাও প্রতিবাদী কণ্ঠ, কোথাও কঠিন পুলিশ অফিসার, কোথাও আবার জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়ানো এক অসহায় শিল্পী।
আর তাই তাঁর প্রয়াণের পর শুধু শোকবার্তা নয়, ফিরে আসছে তাঁর অভিনয়ের দৃশ্যগুলি। কেউ তাঁর সংলাপ শেয়ার করছেন, কেউ উদয় শেট্টির মিম, কেউ আবার ‘ক্রান্তিবীর’-এর সেই পুরনো দৃশ্য। যেন নানাকে বিদায় জানানোর বদলে দর্শকরা তাঁর সঙ্গে আরও এক বার দেখা করে নিচ্ছেন—পর্দার ভিতর দিয়ে।
নানা পাটেকরের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হয়তো এখানেই। অভিনেতা চলে গেলেন, কিন্তু চরিত্রগুলি গেল না।
উদয় শেট্টি এখনও বলবে, ‘কন্ট্রোল!’
প্রতাপ এখনও প্রশ্ন ছুড়ে দেবে সমাজের দিকে।
আর নানার সেই কণ্ঠস্বর—রাগী, কর্কশ, কখনও হাস্যরসাত্মক—বার বার ফিরে আসবে পুরনো দৃশ্যের ভিতর থেকে।
মৃত্যু মানুষকে থামিয়ে দেয়। কিন্তু কিছু অভিনেতাকে থামানো যায় না। নানা পাটেকর তাঁদেরই একজন।
