বাইশ গজে বহুবার ভারতের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০০৩ ও ২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে শুরু করে একাধিক আইসিসি টুর্নামেন্টে অজিদের কাছে হার ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে এখনও তাজা। তবে সেই ক্রিকেটই এবার দুই দেশের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার সেতুবন্ধন হতে চলেছে। অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সহযোগিতার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শুক্রবার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের শীর্ষকর্তা অ্যালিস্টার ডবসন জানান, ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-২০ প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশ লিগ-এর একটি ম্যাচ আয়োজন করা হবে। সেই ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে চেন্নাইকে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে বিগ ব্যাশের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই সম্ভাবনাতেই সিলমোহর পড়ল। এই ঘোষণা ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, চেন্নাইয়ে বিগ ব্যাশের ম্যাচ আয়োজন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে এক বিশেষ মুহূর্ত। তাঁর মতে, ক্রিকেট দুই দেশের মানুষের আবেগকে আরও কাছাকাছি এনে দেবে এবং ক্রীড়া সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
শুধু ক্রিকেটেই নয়, অন্যান্য খেলাধুলাতেও ভারত ও অস্ট্রেলিয়া একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের লক্ষ্যে ভারতের প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করবে অস্ট্রেলিয়া। ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্পোর্টস সায়েন্স, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং প্রতিভা বিকাশ—সব ক্ষেত্রেই যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুই দেশের তরুণ ক্রীড়াবিদদের নিয়ে একটি ইউথ স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। তিনি বলেন, খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসাই ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে আরও দৃঢ়ভাবে একসূত্রে বেঁধে রাখতে পারে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অস্ট্রেলিয়ার দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্টিভ ওয়া এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রাক্তন অধিনায়ক লিসা স্থালেকর। তাঁদের ক্রিকেটজীবনের অবদানের প্রশংসা করেন মোদি। সম্প্রতি সপ্তমবারের মতো মহিলাদের টি-২০ বিশ্বকাপ জেতা অস্ট্রেলিয়া দলকেও অভিনন্দন জানান তিনি।