বিশেষ প্রতিবেদন: ভারতে এমন অনেক রেলস্টেশন রয়েছে, যেগুলি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের জন্যও বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। কোথাও একটি স্টেশন দুই রাজ্যের সীমান্তের কাছে, আবার কোথাও একই রেলপথ পেরিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বদলে যায় রাজ্য।
কিন্তু সত্যিই কি এমন কোনও রেলস্টেশন রয়েছে, যেখানে নামলেই রাজ্য বদলে যায়? নাকি এর পিছনে রয়েছে ভারতের সীমান্তবর্তী রেলপথের এক আশ্চর্য গল্প?
ভারতের মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের সীমান্তে অবস্থিত নাভাপুর রেলস্টেশন। এই স্টেশনের বিশেষত্ব হল, এর একাংশ মহারাষ্ট্রে, অন্য অংশ গুজরাটে। অর্থাৎ, প্ল্যাটফর্মে কয়েক পা হাঁটলেই এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে!
একটি স্টেশন, দুই রাজ্য!
নাভাপুর রেলস্টেশনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০০ মিটার। এর প্রায় ৩০০ মিটার মহারাষ্ট্রের নন্দুরবার জেলায় এবং বাকি ৫০০ মিটার গুজরাটের তাপি জেলার মধ্যে পড়ে। স্টেশনের মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে দুই রাজ্যের সীমানা। ফলে একই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েও আপনি কখনও মহারাষ্ট্রে, কখনও গুজরাটে থাকতে পারেন।
স্টেশনের বেঞ্চেও রয়েছে চমক!
এই স্টেশনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়গুলির মধ্যে একটি হল রাজ্যের সীমানা বরাবর রাখা একটি বেঞ্চ। বেঞ্চটির একাংশ মহারাষ্ট্রে, অন্য অংশ গুজরাটে। ফলে পাশাপাশি বসে থাকা দু’জন যাত্রীও চাইলে দুই ভিন্ন রাজ্যের অংশে বসতে পারেন। এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের কারণে স্টেশনটি বহু মানুষের কাছে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।
টিকিট কাউন্টার এক রাজ্যে, অফিস অন্য রাজ্যে!
নাভাপুর স্টেশনের আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, এর বিভিন্ন পরিকাঠামো দুই রাজ্যের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। টিকিট কাউন্টার ও রেলওয়ে পুলিশ স্টেশন মহারাষ্ট্রের অংশে, অন্যদিকে স্টেশন মাস্টারের অফিস-সহ কিছু সুবিধা গুজরাটের অংশে অবস্থিত। দুই রাজ্যের যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এখানে হিন্দি, ইংরেজি, গুজরাটি ও মারাঠি ভাষায় ঘোষণা করা হয়।
কেন এমন হল এই স্টেশনের অবস্থান?
এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ইতিহাসে। ১৯৬০ সালের ১ মে বম্বে রাজ্য ভেঙে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট নামে দুটি পৃথক রাজ্য গঠিত হয়। তার আগে নাভাপুর স্টেশন ছিল অবিভক্ত বম্বে রাজ্যের অংশ। রাজ্য বিভাজনের পর নতুন সীমানা এই স্টেশনের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়ায় তার একাংশ মহারাষ্ট্রে এবং অন্য অংশ গুজরাটে পড়ে। তাই নাভাপুর এমন একটি রেলস্টেশন, যেখানে রাজ্যের সীমানা শুধু মানচিত্রে আটকে নেই, তা ছুঁয়ে গিয়েছে রেলপ্ল্যাটফর্মকেও।
