দিল্লির পর ঝাড়খণ্ড। জেপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে আন্দোলনে বসেছেন ছাত্রছাত্রীরা। টানা ১৪ দিন ধরে চলছে এই আন্দোলন। এ বার সেই আন্দোলনে শামিল অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ওরফে 'আইসা'র জাতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা। শুক্রবার রাঁচিতে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করলেন সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ আন্দোলনের অন্যতম এই মুখ।
রাঁচির স্টেডিয়ামে টানা ১৪ দিনব্যাপী আন্দোলনের পাশাপাশি আমরণ অনশনে বসেছেন ৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শুক্রবার সকালে। তাঁকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় সদর হাসপাতালে। এই পরিস্থিতিতে ককরোচ আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে নেহা বোরার উপস্থিতি বাড়তি মাত্রা যোগ করছে আন্দোলনে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চলতি আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন আইসা'র সভানেত্রী। সেই সঙ্গে দাবি তুলেছেন পুনঃ পরীক্ষারও।
নেহা বলেন, "অনশনের সময় বন্ধুদের যে কী শারীরিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তা আমি বুঝি। তাই এই স্টেডিয়ামে অনশনরত সকল বন্ধুদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। সারা দেশ তোমাদের এই সংগ্রাম দেখছে। এই মঞ্চ থেকে আমি এই অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।" এরই সঙ্গে পুনঃ পরীক্ষার দাবি জানিয়ে নেহা হুঙ্কার দেন, “জেপিএসসি পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে শুরু করে আজ চতুর্দশতম জেপিএসসি পর্যন্ত একের পর এক কেলেঙ্কারি দেখা গিয়েছে। তাই ১৪ তম জেপিএসসি বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার ঘোষণা করতে হবে অবিলম্বে।”
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে। পাশাপাশি তাদের তরফে এও জানানো হয়েছে, সরকারের তরফে কোনও স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না তাঁরা। এই পরিপ্রেক্ষিতে
শিক্ষার্থীদের তরফে ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে 'রাজ্য বিধানসভা চলো' কর্মসূচির ডাক। অনশনরত এক ছাত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘যদি ধর্মেন্দ্র প্রধান পদ ছাড়তে পারেন, তবে হেমন্ত সোরেন কেন পারবেন না?’’ তাঁর দাবি, ছাত্রদের অভিযোগ সরকার গুরুত্ব দিয়েই দেখছে না।