১৯৪৭ সালের সেই ঐতিহাসিক স্বাধীনতা অর্জনের কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও, সাধারণ মানুষের কাছে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ও অধিকার আজও কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে,তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন ও আক্ষেপ প্রকাশ করলেন প্রত্যক্ষদর্শী প্রবীণ নাগরিক তথা অভিনেতা পরান বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৯৪৪ সালে শৈশবে কলকাতার দমদমে আসার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন,সেই সময় ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ বা ১৯৪৭ এর স্বাধীনতার রাজনৈতিক গভীরতা বোঝার মতো বয়স তাঁর ছিল না। তবে স্থানীয় জিমন্যাস্টিক ক্লাবে সাদা পোশাকে স্বাধীনতা উৎসবের সেই অনাড়ম্বর দিনগুলির কথা আজও তাঁর মনে স্পষ্ট।
তেরঙা পতাকা উত্তোলন, দেশাত্মবোধক গানের সুর, বিপ্লবীদের ছবিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং লজেন্স-বিস্কুট বিতরণের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেত সেই সময়ের নিখাদ আন্তরিক আনন্দ।বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৈশোরে তিনি উপলব্ধি করেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনের নির্মমতা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের ইতিহাস। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মবলিদান এবং জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর অবদান ও তাঁর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের কথা জেনে দেশের প্রতি তাঁর মুগ্ধতা ও চেতনা গড়ে ওঠে।
তবে পরিণত বয়সে পৌঁছে বর্তমান দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করছে। তাঁর মতে, একটি স্বাধীন দেশে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক যে স্বাচ্ছন্দ্য থাকার কথা, তা থেকে আজও সাধারণ মানুষ বঞ্চিত। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিরা সেবকের বদলে নিজেদের ‘শাসক’ ভাবতে শুরু করেছেন। সর্বত্র লোভ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনীতির প্রভাব ঢুকে পড়েছে। সাধারণ মানুষ বিপদের আশঙ্কায় প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে ভয় পাচ্ছেন, যা প্রকারান্তরে নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণেরই প্রতিফলন।
সবশেষে তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত সার্থকতা কেবল আড়ম্বরপূর্ণ উদ্যাপনে নয়। যে দেশে প্রতিটি নাগরিক জাত-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে নির্ভয়ে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারবেন এবং মানবিকতা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে সেটাই হবে সত্যিকারের স্বাধীন দেশ।