তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাঁদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বিকশিত ভারত। দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পড়ুয়া ও তরুণদের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে জীবনের পথে আসা নানা চ্যালেঞ্জকে ভয় না পেয়ে তা গ্রহণ করে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
তরুণদের প্রতি আস্থার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনাদের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আপনাদের মতো তরুণ প্রজন্মকে এ দেশের প্রয়োজন।’’ তাঁর কথায়, দেশের উন্নয়নের যাত্রায় তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং যে পথে এগোবেন, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করবে বিকশিত ভারতের ভবিষ্যৎ।
পড়াশোনার পরীক্ষার সঙ্গে জীবনের পরীক্ষার পার্থক্যও তুলে ধরেন মোদী। তিনি বলেন, পরীক্ষার একটি নির্দিষ্ট সিলেবাস থাকে। কী পড়তে হবে, কোন পরীক্ষা দিতে হবে,সবই আগে থেকে জানা যায়। কিন্তু জীবনের কোনও নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। জীবনের পথে যে প্রশ্ন বা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তার অনেকটাই থাকে ‘আউট অব দ্য সিলেবাস’।
প্রধানমন্ত্রী তরুণদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রতিটি চ্যালেঞ্জ থেকে শেখার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্য, ক্যাম্পাসের জীবন এবং ক্যাম্পাসের বাইরের বাস্তব জীবনের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনে একের পর এক নতুন পরিস্থিতি সামনে আসবে। সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজের পথ তৈরি করতে হবে।
শুধু কোনও কিছু চোখ বন্ধ করে মেনে না নিয়ে প্রশ্ন করার অভ্যাস তৈরি করার কথাও বলেন মোদী। তাঁর মতে, শেখার আগ্রহ সব সময় জাগিয়ে রাখতে হবে। কোনও বিষয় না বুঝলে প্রশ্ন করতে হবে এবং সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেরাই খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেক প্রজন্মের সামনে আলাদা আলাদা চ্যালেঞ্জ আসে। সময়ের সঙ্গে নিজেদেরও বদলাতে হয়। তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, তাঁদের কাজ ও সিদ্ধান্ত যেন দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজে লাগে।
অর্থনীতি, প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে দেশ এগোচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এই যাত্রায় তরুণদের অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম যত শক্তিশালী হবে, দেশও তত শক্তিশালী হবে।