নিউজ ডেস্ক: প্রাচীন মসলিনের ঐতিহ্যবাহী উত্তরাধিকারী ও সম্পূর্ণ হাতে বোনা সূক্ষ্ম বুনন — ঢাকাই জামদানিতে ফুটে ওঠে আভিজাত্য। তাঁতিরা তাঁতে বসে কাপড় বোনার সময় আলাদা সুতো দিয়ে (Discontinuous Weft Technique) জ্যামিতিক এবং ফ্লোরাল নকশা তৈরি করেন। তাই হাতে বোনা আসল জামদানির কদর সবচেয়ে বেশি। বাঙালির যেকোনো পার্বণে জামদানির কদর সবসময়ই আলাদা। সেই আভিজাত্যকে বজায় রেখে পুজোয় এবার নতুন রূপে জামদানির দেখা মিলছে।
এতদিন যে কাটদানার ঝলমলে কাজ আমরা শুধু অরগেঞ্জা, শিফন কিংবা সিল্কের শাড়িতেই দেখতে পেতাম, সেই কাজ এবার নতুন রূপ নিয়ে ফুটে উঠেছে জামদানিতে। জামদানিরর পরিচিত সূক্ষ্ম নকশার ওপরেই যত্ন করে বসানো হয়েছে কাটদানা ও চকচকে কাচ-পুঁতি। ফলে জামদানির চিরাচরিত রূপ বদলে গিয়ে তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম লুক। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ, সাদা বা বেগুনি সব ধরনের রং-এই পাওয়া যাচ্ছে কাটদানা জামদা। এমনকি শাড়ি প্রেমীদের মন জয় করতে বাজারে চলে এসেছে ডুয়েল টোন এবং সিক্যুয়েন্সের দারুণ সব কাটদানা জামদানিও।
এই শাড়ি এত জমকালো আর অভিনব ডিজাইনের জন্য ট্রেন্ডিং হলেও এর দাম সাধ্যের বাইরে নয়। কাটদানা জামদানির দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ২,০০০ টাকা থেকে। নকশার কাজের ঘনত্ব এবং নকশার ওপর ভিত্তি করে দাম কিছুটা বাড়ে, তবে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে প্রচুর বিকল্প। আর আপনি যদি প্যাস্টেল শেড পছন্দ করেন, তবে ৩,২০০ টাকার কাছাকাছি বাজেটে পেয়ে যাবেন মোলায়েম ও দারুণ বডিহাঙ্গিং এই শাড়িগুলো।
কাটদানা জামদানির পাশাপাশি বাজারে আরও একটি শাড়ি এখন সমানভাবে নজর কাড়ছে, সেটি হলো মিরর ওয়ার্কের 'মোডাল সিল্ক'। মোডাল সিল্ক হলো বিচ (Beech) নামক পর্ণমোচী বৃক্ষের সেলুলোজ বা পাল্প থেকে তৈরি অত্যন্ত নরম, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব আধা-সিন্থেটিক (Semi-synthetic) কাপড়। এটি আসল সিল্ক না হলেও এর নামের সাথে 'সিল্ক' শব্দটি যুক্ত থাকে কারণ এর টেক্সচার, কোমলতা এবং গায়ে জড়িয়ে থাকার ক্ষমতা আসল রেশমের মতো মসৃণ ও আকর্ষণীয় হয়। আরামদায়ক ও গর্জাস লুকের জন্য মোডাল সিল্কের জনপ্রিয়তা আগে থেকেই ছিল। তবে এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সূক্ষ্ম কাচের কাজ এবং চোখধাঁধানো সব রং, যা শাড়িটিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করছে। মিরর ওয়ার্কের এই ট্রেন্ডিং মোডাল সিল্কগুলো বাজারে সাধারণ ২,০০০ টাকা থেকে শুরু হলেও, একটু ভালো করে খুঁজলে ১,৫০০ টাকার মধ্যেও অনায়াসে পাওয়া যায়। ফ্যাশন আর আরাম এই দুইয়ের ব্যালেন্স রেখে পুজো বা যেকোনো অনুষ্ঠানে নজর কাড়তে এই দুই শাড়ির কিন্তু কোনো বিকল্প নেই। এবার পুজোয় আপনিও সেজে উঠুন এই দুই ট্রেন্ডিং শাড়িতে।
