নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বিক্ষোভ ঘিরে ফের আইনি জটিলতায় রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। এ বার অভিযোগ, বিক্ষোভের সময় তাঁরা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলা করেছেন।
পুলিশের দায়ের করা নতুন এফআইআর-এ রাহুল ও প্রিয়ঙ্কার পাশাপাশি কংগ্রেসের আরও কয়েক জন নেতা এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নাম রয়েছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, বুধবারের বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে একাধিক বাধার মুখে পড়তে হয় পুলিশকে।
জানা গিয়েছে, বুধবারও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে দিল্লির রাস্তায় নামে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদেরা। তাঁদের কর্মসূচি ছিল যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার। বিরোধী সাংসদেরা বাসে করে রওনা দিলেও যন্তর মন্তরে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের বাস আটকে দেয় পুলিশ।
এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী সাংসদদের কয়েক জন বাসের ছাদে উঠে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী-সহ কয়েক জন সাংসদ রাস্তায় বসে এবং শুয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পুলিশ তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবারের মতোই কয়েক জন সাংসদকে আটক করা হয়।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বুধবারের বিক্ষোভ থেকে মোট ৯১ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে বিরোধী দলের সাংসদ ছাড়াও বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকেরা ছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এর আগে মঙ্গলবারও রাহুল-প্রিয়ঙ্কা-সহ বিরোধী সাংসদদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল দিল্লি পুলিশ। সে দিন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নির্বাচন সদনমুখী মিছিল চলাকালীন রাহুলেরা আকাশবাণী ভবন চত্বরে ঢুকে পড়েছিলেন বলে পুলিশের অভিযোগ। পুলিশের দাবি, ওই এলাকায় ঢোকার জন্য তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় আগাম অনুমতি ছিল না।
পুলিশের বক্তব্য ছিল, বার বার ওই এলাকা থেকে সরে যাওয়ার জন্য বিক্ষোভকারীদের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা সেই নির্দেশ মানেননি। শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাহুল, প্রিয়ঙ্কা-সহ কয়েক জনকে আটক করে নিউ পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাঁদের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতের দাবি জানাতেই তাঁরা বিক্ষোভ করছিলেন। ফলে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও অব্যাহত রয়েছে।
দুই দিনের বিক্ষোভের পর পর পর এফআইআর ঘিরে এখন আরও চাপে বিরোধী শিবির। নতুন মামলায় ওঠা অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে যায় এবং রাহুল-প্রিয়ঙ্কার বিরুদ্ধে পরবর্তী কী আইনি পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
