নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: "টালবাহানা অনেক হয়েছে, এ বার হয় টাকা দিন, না হলে জেলে যান।" শীর্ষ আদালতের এ হেন কড়া ধমকের পর আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইলেন না বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব। কোটি কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনের পর শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সশরীরে হাজির হয়ে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে বকেয়া ঋণ শোধের প্রস্তাব দিলেন তিনি। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ অভিনেতার এই সম্পত্তি বিক্রির আর্জি মঞ্জুর করেছে। কারাদণ্ডের খাঁড়া এড়াতে এ দিন আদালতেই নগদ ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার ডিমান্ড ড্রাফট জমা দেন রাজপাল। বাকি ৮৫ লাখ টাকা মেটানোর জন্য তাঁর সম্পত্তি কিনতে ইচ্ছুক এক ক্রেতাকে আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে সেই অর্থ সরাসরি আদালতে জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
মামলার জট ছাড়াতে গিয়ে আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজপাল অবশ্য দাবি করেন, বিষয়টিকে সাধারণ ঋণ হিসেবে দেখা একেবারেই ভুল। তাঁর কথায়, “সিনেমা বানানোর জন্য কোনও ঋণ নেওয়া হয় না। মানুষ বাড়ি তৈরি করতে বা জমি কিনতে ঋণ নেয়, সিনেমা বানাতে নয়। এটা হয় একটা প্যাকেজ ডিল, না হয় এক ধরণের বিনিয়োগ। রাজপাল যাদব নিজেই ইতিমধ্যে ১০০টি সিনেমায় কাজ করছে, তাহলে একটা সিনেমা বানানোর জন্য তাঁর ঋণের কী প্রয়োজন?” তবে আইনি জটিলতার কথা মাথায় রেখে একই সঙ্গে আদালতের প্রতি নিজের আস্থার কথাও প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। তিনি যোগ করেন, “আমার দেশের প্রতি, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে। যে সিদ্ধান্তই আসুক না কেন, যেখান থেকেই আসুক না কেন, তা সবাই মেনে নেবে।”
https://x.com/ANI/status/2107726896830283889
ঘটনার সূত্রপাত আজ থেকে প্রায় দেড় দশক আগে, ২০১০ সালে। রাজপাল যাদব পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম হিন্দি ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য দিল্লির ‘মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি লগ্নি সংস্থা থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু রুপোলি পর্দায় ছবিটি চূড়ান্ত ফ্লপ হওয়ায় গভীর আর্থিক সংকটে পড়েন অভিনেতা। ঋণদাতাদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য অভিনেতার দেওয়া একের পর এক মোট ৭টি চেক বাউন্স করে। এর পরই নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের অধীনে অভিনেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে ওই সংস্থা। দীর্ঘ বছর ধরে বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় সুদ-আসলে সেই অঙ্ক বিশাল আকার ধারণ করে। নিম্ন আদালত এবং দিল্লি হাইকোর্ট হয়ে মামলাটি যখন সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়, তখন রাজপালের বারবার সময় চাওয়ার আচরণে ক্ষুব্ধ হন বিচারপতিরাও। আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় দিনকয়েক আগেই বেঞ্চ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিল, “আইনকে এভাবে ব্যবহার করা যায় না, আপনার সঠিক জায়গা হলো জেলে।”
আইনের কড়াকড়িতে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হলেন বলিউডের এই নামী কৌতুক অভিনেতা। আদালতের পর্যবেক্ষণে রসিকতা করে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, রাজপালের ছবির নামের মতোই তাঁর দেওয়া টাকাও এত দিন ‘আতা পাতা লাপাতা’ বা গায়েব ছিল। আদালতে রাজপালের আইনজীবীরা জানান, অভিনেতার উত্তরপ্রদেশের পৈতৃক সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকারও বেশি, যা বিক্রি করে সহজেই সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ক্রেতার মাধ্যমে আগামী সপ্তাহের মধ্যে ৮৫ লাখ টাকা জমা পড়লে রাজপালের বকেয়া মেটানোর জন্য পরবর্তী চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তবে নির্ধারিত ডেডলাইনের মধ্যে টাকা জমা না পড়লে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার দায়ে অভিনেতার সাজার মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট।
Tags:
