ধর্ষণে অভিযুক্ত অভিষেক পোড়েলের কেরিয়ার কি তবে শেষ? তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিতে চলছে সিএবি কিংবা দিল্লি ক্যাপিটালস ফ্র্যাঞ্চাইজি? মঙ্গলবার বাংলার উইকেটকিপার-ব্যাটার গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে এই প্রশ্নদুটিই ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেট মহলে। কারণ, চুঁচুড়া জেলা আদালতে পেশ করা অভিষেকের বিরুদ্ধে মোট ১৯টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মধ্যে একাধিক ধারাই জামিন-অযোগ্য।
ধর্ষণ, যৌন হেনস্থা, ব্ল্যাকমেইলিং-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিষেককে। কর্নাটকের এক তরুণী মেডিক্যাল পড়ুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করেছে হুগলির মগড়া থানার পুলিশ। উক্ত তরুণীর দাবি, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। এমনকি তাঁদের বিয়ের কথাও স্থির হয়েছিল। আর দু’জনে একসঙ্গে বিদেশেও গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারিণী। এর পর অভিষেক সম্পর্ক অস্বীকার করলে পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে খুব স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে অভিষেকের ভবিষ্যত নিয়ে। তবে যা শোনা যাচ্ছে, তাতে অভিষেককে নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না সিএবি। আপাতত অপেক্ষা করা হবে। যদি শেষ পর্যন্ত অভিষেক দোষী প্রমাণিত হন, সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। আর যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একই অবস্থান দিল্লি ক্যাপিটালসেরও। সামনের আইপিএলের জন্য ইতিমধ্যেই দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে তারা। বেশ কয়েক জন তরুণ ক্রিকেটারকে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই বেঙ্গালুরুতে কয়েক দিন ধরে ট্রায়াল হয়েছে। আরও দু’টি ট্রায়াল হওয়ার কথা রয়েছে বলে খবর। অর্থাৎ সব মিলিয়ে আপাতত ঝুলেই রইল অভিষেকের কেরিয়ার-ভাগ্য।
উল্লেখ্য, এর আগেও প্রায় দেড় বছর আগে দু’জনের মধ্যে বিবাদ হয়েছিল এবং তা গড়িয়েছিল থানায়। তবে সেই সময় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। এ বার অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে মগরা থানার পুলিশ। তবে তদন্তকারীরা অভিষেকের চন্দননগরের বাড়িতে একাধিক বার গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এর পর কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তরুণী। আদালতের নির্দেশের পরই অভিষেককে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও অভিযোগ ওঠার পর থেকেই যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলা তথা দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্রিকেটার।