ক্রিকেট হোক কিংবা বক্সিং, শচীন মানেই সাফল্য। কমনওয়েলথ গেমসেও সেই নামের মাহাত্ম্য যেন ফের প্রমাণ করলেন শচীন সিওয়াচ। পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগের ফাইনালে নামিবিয়ার ট্রাইআগেন মর্নি ন্ডেভেলোকে ৩-২ স্প্লিট ডিসিশনে হারিয়ে ভারতের ঝুলিতে আরও একটি সোনা যোগ করলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরা লড়াইয়ে পাঁচ বিচারকের মধ্যে তিন জনই শচীনের পক্ষে রায় দেন। প্রতিটি রাউন্ডে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ, নিখুঁত জ্যাব আর অসাধারণ রিং-ক্রাফটের প্রদর্শনী শেষে সোনার হাসি হাসেন ভারতীয় বক্সার।
শচীনের সাফল্যের আগে থেকেই অবশ্য সোনার বন্যায় ভাসছিল ভারতীয় বক্সিং শিবির। দিনের শুরুতে সোনা জিতে পথ দেখিয়েছিলেন প্রীতি পাওয়ার ও জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া। বিকেলে সেই ধারা আরও জোরদার করেন সাক্ষী চৌধুরি, প্রিয়া ঘাঙ্ঘাস ও অরুন্ধতী চৌধুরি। ফলে এক দিনের মধ্যেই একের পর এক সোনা জিতে নজির গড়ে ফেলেন ভারতীয় বক্সাররা। যদিও লভলিনা বরগোঁহাই এবং দিনের শেষ লড়াইয়ে নরেন্দ্রকে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। অন্য দিকে ৮০ কেজি বিভাগে অঙ্কুশ পানঘালও সোনা জিতে ভারতের সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেন।
৫১ কেজি বিভাগের ফাইনালে সাক্ষী চৌধুরি শুরু থেকেই দাপট দেখান। ইংল্যান্ডের রুবি হোয়াইটকে কার্যত কোনও সুযোগই দেননি তিনি। ধারালো জ্যাব, দ্রুত ফুটওয়ার্ক এবং আক্রমণের বৈচিত্রে তিন রাউন্ডেই প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে সোনা নিশ্চিত করেন সাক্ষী। তার পরেই ৬০ কেজি বিভাগে খুড়তুতো বোন প্রিয়া ঘাঙ্ঘাস প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাউন্ডে কানাডার মারি আল-আহমাদিয়েকে চাপে ফেলে জয় ছিনিয়ে এনে ভারতের চতুর্থ সোনা নিশ্চিত করেন। তার পর ৭০ কেজি বিভাগে অরুন্ধতী চৌধরি ইংল্যান্ডের শ্যান্টেলে রেডকে পরাস্ত করে সোনার সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেন।
দিনের শেষে ভারতের ঝুলিতে এসেছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। সব মিলিয়ে ৩৯ টি পদক নিয়ে পদক তালিকায় ভারত উঠে এসেছে চতুর্থ স্থানে। বক্সিং রিং থেকেই এসেছে সর্বাধিক সাফল্য। এক দিনে একের পর এক সোনাজয় শুধু পদকের সংখ্যা বাড়ায়নি। প্রমাণ দিয়েছে ভারতীয় বক্সিংয়ের শক্তিমত্তারও। আর সেই সোনালি দিনের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ হয়ে থাকলেন শচীন সিওয়াচ। যাঁর শুধু নামটাই যেন যথেষ্ট।