কলকাতা, কেয়া মণ্ডল: সল্টলেকের গেস্ট হাউসে তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ। জোর করে আটকে রাখা সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এক সাব ইন্সপেক্টরকে। জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম আজমল হক। তিনি সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর (ASI) পদমর্যাদার অফিসার বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, চলতি বছরের জুন মাসে ওই তরুণী বিধাননগর পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় হয়েছিল। তারপর ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ও আলাপচারিতা বাড়ে। এরপর জুন মাসেই সল্টলেকের একটি অতিথিশালায় দু’জনের দেখা হয়।
অভিযোগ, অতিথিশালায় যাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই তরুণীকে জোর করে সেখানে আটকে রাখা হয় এবং তাঁর উপর যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ।
সূত্রের খবর, তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় আগেই জামিন নিয়েছিলেন ওই সাব ইন্সপেক্টর। পরবর্তী সময়ে বীরভূম জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ। এরপর খোঁজ মেলেনি অভিযুক্ত সাব ইন্সপেক্টরে। সূত্র মারফত খবর পেয়ে মুম্বই থেকে আজমল হককে গ্রেফতার করে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের দাবি, অভিযোগের গুরুত্ব খতিয়ে দেখে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ও নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। অতিথিশালায় ওইদিন কী ঘটেছিল, সেখানে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণী কতক্ষণ ছিলেন এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগকারিণীর বয়ান, অতিথিশালার নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য-সহ বিভিন্ন দিক তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় এবং পরবর্তী যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।