অক্টোবর মানেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর শুরু। বাঙালি হিন্দু সমাজের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব। ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় সপ্তমী দুই দিন ধরে পালিত হবে! কিন্তু কেন? জেনে নিন বিস্তারিত কারণ
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, তিথি গণনা করা হয় সূর্যোদয়ের সময়ে। এবছর সপ্তমী তিথি শুরু হচ্ছে আগামী ১৬ অক্টোবর রাত থেকে এবং শেষ হচ্ছে ১৮ অক্টোবর সকালে। যেহেতু তিথি দুই দিনের সূর্যোদয়কে স্পর্শ করছে, তাই জ্যোতিষশাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী সপ্তমী দুই দিনেই পালিত হবে। এটাকে বলা হয় ‘তিথি বুদ্ধি’ বা ‘তিথি পরিবর্তন’। প্রতি কয়েক বছর অন্তর এমনটা হয়।
চলতি বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘটছে ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। সপ্তমী তিথির দিনের ওপর নির্ভর করে আগমন বাহন ঠিক হয়। ঘোড়ায় চড়ে দেবীর আসার অর্থ হল ছত্রভঙ্গ বা সামাজিক অস্থিরতা, ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সংকেত। পুরাণ মতে, সপ্তমী তিথিতেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। যখন সপ্তমী দুই দিন ধরে পালিত হয়, তখন বিশ্বাস করা হয় দেবীর আশীর্বাদ দ্বিগুণ পরিমাণে বর্ষিত হয়। তাই দুই দিন সপ্তমী হওয়াকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করেন জ্যোতিষীরা। চন্দ্র-সূর্যের অবস্থান ও তিথির স্থায়িত্বের কারণে একটি তিথি পরপর দুই সূর্যোদয়কে স্পর্শ করতে পারে। তখন পঞ্জিকা অনুসারে একই তিথি দুই দিনের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে যায়।
সপ্তমীর সকালের প্রধান রীতি হল নবপত্রিকা স্নান। যা বলা হয় কলা বউ স্নান। ষষ্ঠীর বোধনের পর সপ্তমীর সকালে নটি গাছের সমন্বয়ে কলা বউ এসে বসে গণেশের পাশে। তাই অনেকেরই ধারণা কলা বউ গণেশের স্ত্রী। যা একেবারে ভুল ধারণা। নবপত্রিকা আসলে দুর্গারই রূপ। এই গাছ আদৌ গণেশের স্ত্রী নন, বরং মা দুর্গা অর্থাৎ গণেশের জননী।
আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার। সে দিন থেকেই পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে সূচনা হবে দেবীপক্ষের। ভোরবেলা রেডিও থেকে ভেসে আসবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত সুরে মহিষাসুরমর্দিনীর স্তব। ১৬ অক্টোবর শুক্রবার রাত ১টা ৪২ মিনিটে ষষ্ঠী তিথি শুরু। দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস হবে শুক্রবার সন্ধ্যায়। ১৭ অক্টোবর শনিবার সপ্তমী। ১৮ অক্টোবর রবিবার অষ্টমী। ১৯ অক্টোবর নবমী। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩১ মিনিটে দশমী তিথি শুরু। সকাল ৮টা ৩১ মিনিটের মধ্যে দশমী বিহিত পুজো ও বিসর্জন প্রশস্ত।
