নিউজ ডেস্ক: শাহজাহানপুরে বসতবাড়ির উঠোনে দানবীয় কুমির, শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বাগে আনল বন দফতর ও গ্রামবাসীরা। সকালের শান্ত পরিবেশটা হঠাৎই বদলে গিয়েছিল তীব্র আতঙ্কে। বাড়ির পাশের গলিতে চোখ পড়তেই চক্ষু চড়কগাছ স্থানীয়দের ঝোপঝাড়ের আড়ালে ধীরপায়ে এগিয়ে আসছে এক দানবীয় কুমির। উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর জেলার খুদাগঞ্জ থানা এলাকার সৈদপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় দিনভর চরম শোরগোল ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে হঠাৎই গ্রামের একটি বাড়ির দেওয়াল সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায় বিশালাকার কুমিরটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমে যায় গোটা এলাকায়। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা ও শিশুরা নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের পাকা দেওয়ালের ওপর বসেন।
স্থানীয়দের ভিড় বাড়তে থাকায় প্রাণীটিও বেশ কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কয়েকজন সাহসী গ্রামবাসী দীর্ঘ বাঁশের লাঠি দিয়ে কুমিরটিকে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন।
https://x.com/thelucknowtimes/status/2107658919980253488
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় বন দফতর ও খুদাগঞ্জ থানায়। বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছান। তবে ঘনবসতিপূর্ণ গলির মধ্যে কুমিরটিকে কোনো ক্ষতি না করে জীবিত উদ্ধার করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বন আধিকারিক ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা একযোগে উদ্ধার কাজে হাত লাগান। প্রাণীটির মুখ ও শক্তিশালী লেজের ঝাপটা এড়াতে দড়ি এবং বাঁশের সাহায্যে এক সুকৌশলী জাল বিস্তার করা হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টার টানা টানটান উত্তেজনার পর কুমিরটিকে বাগে আনা সম্ভব হয় এবং এর মুখটি বস্তা ও দড়ি দিয়ে নিরাপদভাবে বেঁধে ফেলা হয়।
উদ্ধারের পর প্রাণীটিকে মোটা বাঁশের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে বেশ কয়েকজন মিলে কাঁধে চাপিয়ে গ্রামের বাইরে নদীর চরে নিয়ে যান।
বন দফতরের কর্মীরা জানান, সম্ভবত স্থানীয় নদী বা সংলগ্ন জলাশয় থেকে খাবারের খোঁজে পথ ভুল করে কুমিরটি গ্রামের ভেতর ঢুকে পড়েছিল। প্রাথমিক পরীক্ষার পর কুমিরটির বাঁধন সাবধানে খুলে দিয়ে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় প্রাকৃতিক জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়। গ্রামবাসীদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং বন দফতরের পেশাদার সহযোগিতার কারণে বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটেনি।