স্পোর্টস ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি দলে তাঁর জায়গা নেই। আর সেই বিষয়টিই যেন সাংবাদিকের প্রশ্নে আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন শুভমান গিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হওয়ার আগে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনার পদক জয় এবং আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রস্তুতি নিয়ে। প্রথম প্রশ্নের উত্তর বেশ স্বাভাবিকভাবেই দিয়েছিলেন ভারতের টেস্ট এবং ওয়ানডে দলের অধিনায়ক। কিন্তু পরের প্রশ্নেই একেবারে সটান জবাব গিলের—“টি-টোয়েন্টিতে তো আমিই নেই।” তাঁর এই ছোট্ট মন্তব্যই এখন ক্রিকেটমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ, একদিনের ক্রিকেট এবং টেস্টে ভারতীয় দলের ব্যাটন তাঁর কাঁধে থাকলেও দেশের টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনায় আপাতত জায়গা হয়নি গিলের। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যাটে ধারাবাহিকতার অভাবই সম্ভবত নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। মঙ্গলবার লখনউয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হচ্ছে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ। তার আগে গিলের মন্তব্যে একদিকে যেমন ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর বর্তমান অবস্থানটা বেশ পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, তেমনিই যেন ঝরে পড়ছে কিছুটা অভিমানও।
এশিয়ান গেমসে সোনার পদক জেতায় সতীর্থদের অভিনন্দন জানিয়ে গিল বলেন, “ভারতীয় দল এবং আমার সতীর্থদের অভিনন্দন।” এরপর সাংবাদিক জানতে চান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দলের প্রস্তুতি কেমন চলছে। প্রশ্ন শুনেই গিল যেন খানিকটা অবাক হয়ে পাল্টা বলেন, “টি-টোয়েন্টিতে তো আমিই নেই।” তাঁর এই উত্তরেই উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি যেন পরিষ্কার হয়ে যায়। ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে বর্তমানে নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন শ্রেয়স আইয়ার। এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেটেও তাঁর নেতৃত্বেই ভারত সোনা জিতেছে। সেই দল দেশে ফিরে এ বার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামছে। ফলে গিলকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠাটাও স্বাভাবিক। তবে গিলের উত্তর ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং কোনও রাখঢাক না রেখেই। টি-টোয়েন্টিতে তিনি নেই, সাংবাদিককে এই নির্মম বাস্তবটা যেন কিছুটা অভিমানের সুরেই নিজেই মনে করিয়ে দিলেন ভারতীয় তারকা।
আপাতত গিলের মূল দায়িত্ব টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেটে। বিশেষ করে সদ্য শেষ হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজে তাঁর ব্যাট কথা বলেছে দুর্দান্তভাবে। তিন ম্যাচে মোট ৩৩৪ রান করে সিরিজের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। তার মধ্যে অপরাজিত ২২৩ রানের ইনিংসটি ছিল তাঁর সাম্প্রতিক কেরিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। অর্থাৎ, টি-টোয়েন্টি থেকে বাদ পড়লেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে গিল যে ফুরিয়ে যাননি, তা এক দিনের সিরিজেই প্রমাণ করেছেন। বরং ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তিনি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার। টেস্টেও তাঁর উপর দলের বড় ভরসা রয়েছে। অন্য দিকে, টি-টোয়েন্টিতে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। তার পর থেকে ভারতের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের পরিকল্পনায় তাঁকে আর দেখা যায়নি। নতুন নেতৃত্ব এবং নতুন কম্বিনেশনে ভারত যে পথে এগোচ্ছে, সেখানে আপাতত গিলের জায়গা হয়নি।
তবে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে সদ্য শেষ হওয়া এক দিনের সিরিজের শেষ ম্যাচের পর গিলের কথাতেও দলের কিছু খামতির ইঙ্গিত ছিল। তৃতীয় ম্যাচে ভারত হেরে যায় পাঁচ উইকেটে। সেই ম্যাচে গিলের নেতৃত্বাধীন ভারত ৫০ ওভারে ৩৫১ রান করেও ম্যাচ ধরে রাখতে পারেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪৮.২ ওভারেই সেই পর্বতসম লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে। ম্যাচের পর গিল জানিয়েছিলেন, দলের মোট রান নিয়ে তিনি খুশি ছিলেন, কিন্তু শিশিরের কারণে কয়েক ওভার পিছিয়ে পড়া এবং শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাল্টা আক্রমণ ম্যাচের রং বদলে দেয়। তবে এখন সেই অধ্যায় পেরিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের নজর টি-টোয়েন্টিতে। লখনউয়ে আজ প্রথম ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে নতুন লড়াই। আর সেই ম্যাচের আগে গিলের এক লাইনের মন্তব্যই বুঝিয়ে দিল—ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর ভূমিকা বদলালেও আত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি নেই। বরং টি-টোয়েন্টি দলে না থেকেও এক দিনের ক্রিকেটে নিজের জায়গাটা কতটা শক্ত, সেটাই সদ্য ব্যাট হাতে দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি।
