স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে ঘরে ফিরেছেন। ঘরের মাঠে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তাঁর বিধ্বংসী শতরানে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল ভারত। লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আইয়ার। সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৯.১ ওভারে ১৭১ রানে অলআউট করে দেন ভারতীয় বোলাররা। জবাবে মাত্র ১৪.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় মেন ইন ব্লু। মাত্র ৪৩ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন অধিনায়ক আইয়ার। তাঁর এই ইনিংস সাজানো একের পর এক চার ও ছক্কার বন্যায়। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটাই আইয়ারের প্রথম শতরান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কোনও ভারতীয় ব্যাটারের দ্রুততম শতরানের নজিরও গড়লেন তিনি। শেষ দিকে রস্টন চেজকে ছক্কা মেরে তিন অঙ্কে পৌঁছন ভারত অধিনায়ক। তাঁর সঙ্গে ঈশান কিষাণের (৩৭) ১৩৭ রানের অপরাজিত জুটিই ম্যাচের যাবতীয় উত্তেজনার ইতি টেনে দেয়।
ভারতের রান তাড়া শুরুটা অবশ্য একেবারে মসৃণ ছিল না। অভিষেক শর্মা শুরুতেই ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। ম্যাথিউ ফোর্ডের ওভারে ছক্কা ও দু’টি চার-সহ ১৫ রান তুলে নেন তিনি। সঞ্জু স্যামসনও চার মেরে ভারতকে দ্রুত এগিয়ে দেন। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ ওভারেই ছবিটা বদলে যায়। রস্টন চেজের বলে ভুল শটে লং-অফে ক্যাচ দিয়ে ১০ বলে ২১ রান করে ফেরেন অভিষেক। পরের ওভারে আকিল হোসেনের বলে সঞ্জু স্যামসনও ১১ রানে ফিরে যান। ৩৬ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই চাপকে মুহূর্তেই উড়িয়ে দেন আইয়ার। ঈশান কিষাণকে সঙ্গে নিয়ে ক্রমশ গতি বাড়াতে থাকেন তিনি। পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই ভারত পৌঁছে যায় ৬২ রানে। ১০ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ১০২/২। এরপর তো একেবারে আইয়ার-ঝড়। ২৮ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি। ১৩ ও ১৪তম ওভারে ভারত তোলে ৪৩ রান। ফোর্ডের ওভারে পরপর দু’টি ছক্কা মেরে ম্যাচ কার্যত হাতের মুঠোয় নিয়ে নেন ভারত অধিনায়ক।
এর আগে ভারতীয় বোলারদের দাপটে বড় রান তুলতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুতেই আরশদীপ সিংয়ের বলে কামিল পুরান ১২ রানে বোল্ড হন। এরপর অক্ষর প্যাটেলের এক ওভারেই জোড়া ধাক্কা খায় ক্যারিবিয়ানরা। রান-আউট হন শিমরন হেটমায়ার, পরের বলে বোল্ড রভম্যান পাওয়েল। মাঝের ওভারে শাই হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ড কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। হোপ ৩৭ বলে ৫২ রান করেন। রাদারফোর্ডের ব্যাট থেকে আসে ৩৪ বলে ৫৬। কিন্তু তাঁদের বিদায়ের পর ফের ধস নামে। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা নমন ধীর বল হাতে নজর কাড়েন। রোমারিও শেফার্ড ও শামার স্প্রিঙ্গারের উইকেট নেন তিনি। কুলদীপ যাদবও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৭১ রানেই থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের হয়ে বল হাতে নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের পর ব্যাট হাতে আইয়ার ম্যাচের সেরা হয়ে ওঠেন। ৩২ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নিয়ে সিরিজে দারুণ শুরু করল ভারত।
এ দিকে এই ম্যাচের মধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটে এল আরও বড় খবর। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর পর ফিরলেন ভুবনেশ্বর কুমার। ৩৬ বছরের পেসার শেষ বার ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেই। আইপিএল ২০২৬-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার পর ফের জাতীয় দলে জায়গা করে নিলেন তিনি। গত মরশুমে আরসিবির হয়ে ১৭টি উইকেট নিয়েছিলেন ভুবনেশ্বর। নতুন নির্বাচক কমিটির অন্তর্বর্তী প্রধান প্রসূন ওঝার সময়েই এই প্রত্যাবর্তন। চোটের কারণে এশিয়ান গেমসে খেলতে না-পারা বরুণ চক্রবর্তীকেও দলে ফেরানো হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২২ অক্টোবর ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টি-টোয়েন্টি। ২৪ অক্টোবর দ্বিতীয় ম্যাচও ক্রাইস্টচার্চে, ২৭ অক্টোবর ওয়েলিংটনে তৃতীয়, ৩০ অক্টোবর অকল্যান্ডে চতুর্থ এবং ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনে শেষ ম্যাচ। দলে রয়েছেন শ্রেয়স আইয়ার, অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, বৈভব সূর্যবংশী, ঈশান কিষাণ, তিলক ভার্মা, অক্ষর প্যাটেল, শিবম দুবে, নীতীশ কুমার রেড্ডি, নমন ধীর, প্রিন্স যাদব, ময়াঙ্ক যাদব, অর্শদীপ সিং, ভুবনেশ্বর, বরুণ ও কুলদীপ। অর্থাৎ লখনউয়ে আইয়ারের শতরানের রাতেই ভারতীয় ক্রিকেটে জোড়া বার্তা। নেতৃত্বে আইয়ার জমে গিয়েছেন, আর অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার নিয়ে ফিরছেন ভুবি।
