নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ অক্টোবরের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানালেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় এমনটাই জানিয়েছেন ওয়াংচুক। কারণ হিসাবে তিনি জানান, আসন্ন শীতের প্রস্তুতি এবং হিমালয় অঞ্চলের জল নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে আপাতত ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। সরকারের তরফে তাঁদের কাজ বাধাগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা কাজ চালিয়ে যাবেন।
ওয়াংচুকের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে হিমালয়ের হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদ থেকে তৈরি হওয়া বন্যার আশঙ্কা। শীতের আগে জল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম হিমবাহ তৈরির পাশাপাশি গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লড বা GLOF-এর ঝুঁকি মোকাবিলায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা জানিয়েছেন তিনি। এই GLOF হল হিমবাহের হ্রদের জল বাঁধ ভেঙে বা অন্য কারণে হঠাৎ বেরিয়ে এসে তৈরি হয় বিধ্বংসী বন্যা। ওয়াংচুকের দাবি, হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ২০০-রও বেশি এমন বিপজ্জনক জলভাণ্ডার রয়েছে, যা মোকাবিলায় কাজ করা প্রয়োজন।
দিল্লির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে না পারার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে উর্দু কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের কবিতার ভাবনাও তুলে ধরেছেন তিনি। তিনি বলেন, “রাজনীতি ছাড়াও পৃথিবীতে আরও অনেক দুঃখ রয়েছে।" তাঁর বক্তব্য, রাজনীতির বাইরেও সমাজের সামনে বহু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে, যার মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলাও অন্যতম। একদিকে রাজনৈতিক দাবিতে আন্দোলন চলুক, অন্যদিকে হিমালয়ের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলের সুরক্ষার কাজও অব্যাহত থাকুক।
https://x.com/Wangchuk66/status/2108581360764059902?s=20
পাশাপাশি প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াংচুক। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, শান্তিপূর্ণ পথ থেকে যেন কেউ সরে না আসেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জুন মাসে যন্তর মন্তরে মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার আদর্শ তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন ওয়াংচুক। সবশেষে তিনি বলেন, "আশা করি, আমরা কেউই বাপুকে হতাশ করব না।” আন্দোলনকারীরা শান্তি ও অহিংসার সেই আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখবেন বলে আশাবাদী তিনি।