নাউজ ডেস্ক: লাদাখকে ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ চিন। দিল্লির দরবারে বারে বারে ধাক্কা খাচ্ছে লাদাখের প্রতিনিধিরা। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও পারিপার্শ্বিক চ্যালেঞ্জ প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
লাদাখের রাজনৈতিক অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিয়ে যখন কেন্দ্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা বা কোনও সমাধান মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। তিনি সমাজ মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। হিন্দির একটি জনপ্রিয় প্রবাদ লিখে তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "চিনের কোনও অধিকার নেই লাদাখ সম্বন্ধে কোনও কটু কথা বলার। আমাদের পড়শীদের তিব্বত চিন নয়। ওরা প্রথমে জানাক ওরা তিব্বত কবে খালি করছে। কবে তিব্বত তিব্বতি ভাই বোনদের হাতে তুলে দিচ্ছে। চিনের এই বিরূপ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে লেহ অ্যাপেক্স বডির সদস্যরা। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন এই ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা করছি। লাদাখের মানুষ বরাবর ভারতে খুশি ছিল আগামী দিনেও খুশি থাকবে। এই ঘটনার কয়েক ঘন্টা পরেই কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে লেহ অ্যাপেক্স বডির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক হয়। আর তারপরে একটাই কথা মনে হচ্ছে,,'হমে তো আপনো নে লুটা, গইরোঁ মে কহাঁ দম থা, মেরি কশতি ওহাঁ ডুবি, জহাঁ পানি কম থা'। "
https://x.com/Wangchuk66/status/2111127060861358396
পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “২০১৯ সালে লাদাখ ইউটি হয়েছিল। আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল আগামী দিনে আমাদের লোকতন্ত্র দেওয়া হবে। পাশাপাশি লাদাকে সংরক্ষণ সংবিধানের ৬ নম্বর সিডিউল আয়তায় আনা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সব কিছুই হয় না। ভোট জয় এই প্রতিশ্রুতির ওপরেই হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার আমাদের মান্যতা দেয়নি। পরবর্তীতে আবারও গৃহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়। আমরা আশা করেছিলাম আমাদের অধিকার মিলবে। কিন্তু পরবর্তীতে যা হল ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”
প্রসঙ্গত, ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এ লেহ-তে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে লাদাখের নেতাদের বৈঠক হয়। কিন্তু সাংবিধানিক সুরক্ষা ও প্রস্তাবিত নির্বাচিত প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় বৈঠক থেকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসেনি। আগামী ২২ অক্টোবর দিল্লিতে ফের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
লেহ অ্যাপেক্স বডি (LAB) এবং কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের (KDA) প্রতিনিধিরা কেন্দ্রের কাছে লাদাখের জন্য পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা, সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় সুরক্ষা, স্থানীয় যুবকদের জন্য চাকরিতে সংরক্ষণ এবং পৃথক সংসদীয় আসন।
বৈঠকে কেন্দ্রের তরফে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও নির্বাচিত প্রশাসনিক কাঠামোর খসড়া পেশ করা হয়। কিন্তু সেই প্রস্তাবে লাদাখের দাবির প্রতিফলন যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিনিধিরা। ওয়াংচুকও জানিয়েছেন, দুই পক্ষের প্রস্তাবের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। তবে তিনি আলোচনাকে পুরোপুরি ব্যর্থ হিসাবে দেখছেন না। তিনি আশা রাখছেন এর সমাধান মিলবে।




