কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ডারউইনে প্রথম টেস্ট জয়ের পর ক্যাঙ্গারুর দেশে প্রথমবার সিরিজ জয়ের ব্রত নিয়েছিল বাংলাদেশ। স্বপ্ন দেখেছিল অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই হোয়াইটওয়াশ করার। কিন্তু হোয়াইটওয়াশ তো অনেক দূরের কথা, ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই মিচেল স্টার্কের সামনে কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল বাংলাদেশের ব্যাটিং। মাত্র ৬৪ রানেই অলআউট টাইগাররা।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্টে এটাই তাদের সর্বনিম্ন দলীয় রান। শনিবার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া দুই টেস্টের সিরিজের শেষ ম্যাচে টসের পর থেকেই বিপর্যয়ের ছবি। মধ্যাহ্নভোজের আগেই ৩৫ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। বিরতির পরও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হল না। মাত্র ১১ ওভারের মধ্যে পড়ে গেল আরও চার উইকেট। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২০৩ বলেই বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের যাত্রা থামিয়ে দিল স্টার্ক-কামিন্সরা।
বাংলাদেশ ইনিংসে কার্যত একাই ধস নামিয়ে দেন স্টার্ক। বাঁহাতি এই অজি পেসার মাত্র ১২ রান দিয়ে একাই তুলে নিলেন ৬ উইকেট। নাজমুল হোসেন শান্তবাহিনীর ব্যাটিং লাইন-আপের প্রথম সারি থেকে লোয়ার অর্ডার—কেউই স্বস্তি পাননি স্টার্কের সামনে। লাঞ্চের বিরতির পরও ধ্বংসলীলা সমানতালে চলতে থাকে। মেহেদী হাসান মিরাজ ৫১ বলে ১১ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তার পর জশ হ্যাজেলউডের শিকার হাসান মাহমুদ। স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৩৬ বলে ১০ রান করে ফেরেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাসকিন আহমেদও আউট। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৩৯-৯।
এর পর শরিফুল ইসলাম এবং তাইজুল ইসলাম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দু’জনে মিলে ২৫ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার অপেক্ষা বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিরোধও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। স্টার্ক ফের আঘাত হানতেই বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ দরজা খুলে যায়। অস্ট্রেলীয় পেসারের বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ১৪ রানে ফেরেন শরিফুল। তিনিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তাইজুল ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, বাংলাদেশের আর কোনও ব্যাটার ১১ রানের বেশি করতে পারেননি। অর্থাৎ গোটা ইনিংসে বড় রান তো দূরের কথা, দুই অঙ্কেও পৌঁছতে পারেননি অধিকাংশ ব্যাটার।
৬৪ রানের এই লজ্জার স্কোর বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অবশ্য এটাই তাদের সর্বনিম্ন ইনিংস। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৯৭ রান। ২০০৩ সালে। সেই রেকর্ডও এ দিন ভেঙে গেল অনেকটাই। ম্যাকের মেঘলা পরিবেশে অস্ট্রেলীয় পেসারদের দাপটের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং যে ভাবে মুখ থুবড়ে পড়ল, তাতে প্রত্যাবর্তনের টেস্টের শুরুতেই ম্যাচের রাশ চলে গেল ব্যাগি গ্রিনদের হাতে। আর স্টার্ক? ৬ উইকেটের দুরন্ত স্পেলে তিনি ফের মনে করিয়ে দিলেন, লাল বলের ক্রিকেটে নতুন বলে তাঁর বিষাক্ত সুইং এখনও কতটা ভয়ঙ্কর।