নয়াদিল্লি: প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বাধা দেওয়া যাবে না। যানবাহন চলাচল এবং গণপরিবহন পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, “একটা মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না।” ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যান চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ করে শীর্ষ আদালত।
CJP-র প্রতিবাদ ঘিরে দিল্লির একাধিক এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং রেল পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাও সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অসুবিধার কথা তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। শুনানিতে বিরোধী সাংসদ কপিল সিবলও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আগে পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার সরকারের রয়েছে। প্রয়োজনে নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু বিধিনিষেধও আরোপ করা যেতে পারে। কিন্তু সেই কারণে গোটা পরিবহন ব্যবস্থা কার্যত অচল করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। যেসব রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হচ্ছে, সেখানে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখার কথাও বলেন তিনি।
‘সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে’
প্রধান বিচারপতি মনে করিয়ে দেন, দিল্লির বহু মানুষের নিজস্ব গাড়ি নেই। প্রতিদিন কাজের জন্য তাঁদের মেট্রো, বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনের উপর নির্ভর করতে হয়। পরিবহন পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন সেই সাধারণ মানুষ, যাঁরা জীবিকার তাগিদে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করেন।
তাঁর বক্তব্য, কোনও একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়, বরং হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণের নামে সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার খর্ব করা যায় না বলেও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। এদিকে, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মেট্রো স্টেশন খোলা রাখার বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।
দিল্লির নিরাপত্তা ঘিরে কেন এত কড়াকড়ি?
নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে CJP-র প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। যন্তরমন্তরে প্রস্তাবিত জমায়েতের আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়। রেলস্টেশন ও মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধের জেরে যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কাও তৈরি হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে নয়াদিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়। শনিবার ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত নয়াদিল্লি স্টেশনে ট্রেন প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছিল। হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনেও বিধিনিষেধের কথা সামনে আসে। সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্যে ভারসাম্য রাখার উপর জোর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা যেন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকাকে অকারণে বিপর্যস্ত না করে, আদালতের পর্যবেক্ষণে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে।
