নয়াদিল্লি: দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফের উত্তপ্ত সুপ্রিম কোর্ট। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া আইনজীবী, পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের উপর পুলিশি অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সরব হলেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তাঁর অভিযোগ, সিনিয়র আইনজীবীদের রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, অনেককে বাসে তুলে আটক করা হয়েছে। এমনকি লাঠি হাতে থাকা কিছু ব্যক্তি শিশুদের উপর হামলা চালালেও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
সোমবার, ১২ অক্টোবর, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের সামনে দিল্লির সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরেন গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনাগুলি শুধু আইনজীবীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ নয়, বরং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নও তুলে দিয়েছে।
‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবার’
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট করে দেন, বার-এর প্রত্যেক সদস্যের নির্দিষ্ট স্থানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই অধিকারকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের কাজকর্ম ব্যাহত হতে দেওয়া যায় না। আদালত চত্বরে বিচারপ্রক্রিয়া, আইনজীবীদের যাতায়াত এবং বিচারপ্রার্থীদের কাজে কোনও বাধা সৃষ্টি হওয়া উচিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, গোপাল শঙ্করনারায়ণনের দাবি, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আইনজীবীদের সঙ্গে কী আচরণ করা হয়েছে, কেন তাঁদের আটক করা হয়েছিল এবং বিক্ষোভকারীদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ কতটা সত্য সেই প্রশ্নগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি জরুরি। পুলিশের উদ্দেশে আদালতের তরফে শক্ত বার্তা দেওয়ারও আবেদন জানান তিনি।
BNSS-এর ১৬৩ ধারা নিয়েও প্রশ্ন
দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করে বিধিনিষেধ আরোপের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই ধারার অধীনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করা যায়। কিন্তু সেই বিধিনিষেধের সুযোগ নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের নির্বিচারে আটক করা যায় কি না, তা নিয়েই বিতর্ক।
গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতকে অনুরোধ করেছেন, এই বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদন দ্রুত শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হোক। তাঁর আবেদন, আগামীকালই মামলাটির শুনানি করে পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাক শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের আগের শুনানিতেও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি গুরুত্ব পেয়েছে। ১১ অক্টোবরের বিশেষ শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র ব্যক্তিদের আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া আটক না করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, পরিস্থিতির প্রয়োজন না থাকলে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ইন্টারনেট পরিষেবা সচল রাখা এবং দিল্লিতে মানুষের যাতায়াত সহজ করার বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়।
এখন নজর মঙ্গলবারের পরবর্তী শুনানির দিকে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাবে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশ কী জানায়, এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের অধিকার রক্ষায় আদালত আরও কোনও নির্দেশ দেয় কি না, সেটাই দেখার। তবে গোপাল শঙ্করনারায়ণনের অভিযোগগুলি এখনও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে; তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণেই ঘটনার পূর্ণ ছবি স্পষ্ট হবে।
