নয়াদিল্লি,অঙ্কন দাস: নয়বছর পর যুগ ফের উঠল বিতর্ক। দেশে রাতারাতি বাতিল হয়েছিল তিন তালাক ব্যবস্থা। এবার কি সেই পথে মুসলিমদের বহুবিবাহ? একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি দেওয়া মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের সাংবিধানিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে ৫ জন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রের জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এই মামলার মূল প্রশ্ন, মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে অনুমোদিত বহুবিবাহ কি সংবিধানের সমতার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? কারণ, একটি বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে সাধারণভাবে ফৌজদারি আইনে শাস্তিযোগ্য। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৮২ নম্বর ধারায় এমন দ্বিতীয় বিবাহের জন্য ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই বিধান অ-মুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কী দাবি করেছেন আবেদনকারীরা?
ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলন (BMMA)-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা জাকিয়া সোমান ও নূরজাহান সাফিয়া নিয়াজ-সহ ৫ জন সুপ্রিম কোর্টে যৌথ জনস্বার্থ মামলা করেছেন।আবেদনকারীরা মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭-র ২নম্বর ধারাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই আইনের মাধ্যমে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে বহুবিবাহের যে স্বীকৃতি রয়েছে, তা সংবিধানের ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে দেওয়া সমতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
২০১৭ সালের একটি বিশেষ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বহুবিবাহ এবং 'নিকাহ হালালা'র সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে কোনও মতামত দেয়নি। নিকাহ হালালায় বিবাহবিচ্ছিন্ন মুসলিম মহিলাকে প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিয়ে করার আগে অন্য একজন পুরুষকে বিয়ে করে সেই বিবাহ বিচ্ছিন্ন হতে হয়। তারপর আগের স্বামীকে বিয়ে করা যায়।
এই প্রসঙ্গে উঠে আসে ১৯৯৫ সালের সরলা মুদগল বনাম কেন্দ্র সরকারের মামলা। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় শুধুমাত্র দ্বিতীয় বিয়ে করার উদ্দেশ্যে ইসলাম গ্রহণ করে হিন্দু স্বামীর করা দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ নয়। ২০০০ সালের লিলি থমাস বনাম কেন্দ্র সরকারের মামলাতেও আদালত একই সিদ্ধান্ত রেখেছিল।
আবেদনে কোরানের সুরাহ আন নিসার (৪:৩) উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনও পুরুষ যদি আশঙ্কা করেন, তিনি একাধিক স্ত্রীর মধ্যে ন্যায়বিচার করতে পারবেন না, তাহলে তাঁর একজন স্ত্রী নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে,কোরানে একজন পুরুষকে সর্বোচ্চ ৪ জন স্ত্রী রাখার অনুমতি দেওয়া হলেও স্ত্রীদের মধ্যে আর্থিক ও আবেগগত সমতা বজায় রাখার শর্ত রয়েছে।
আবেদনকারীদের যুক্তি, সেই পূর্ণ সমতা বাস্তবে বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন। এই ক্ষেত্রে, মামলাটিতে সুপ্রিম কোর্টের সামনে সাংবিধানিক প্রশ্নগুলি ক্রমেই শক্ত হয়ে উঠেছে। আদালত ১৯৩৭ সালের শরিয়ত আইনের ২ নম্বর ধারার ব্যাখ্যা করে বহুবিবাহ ও নিকাহ হালালাকে সাংবিধানিক পরীক্ষার আওতায় আনতে পারে। আবার অন্যদিকে, বহুবিবাহ বন্ধ করতে পারে।