বীরভূম, কেয়া মণ্ডল: তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছিল অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে। এবার তারাপীঠে ১৫টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ, জানালেন রামপুরহাটের এসডিও।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত অডিট কমিটির প্রথম বৈঠক ইতিমধ্যেই হয়েছে। বৈঠক শেষে রামপুরহাটের এসডিও আশ্বিন বাবুসিংহ রাঠোর জানান, তারাপীঠের হোটেলগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে মোট পাঁচটি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি হোটেলে গিয়ে যৌথভাবে অগ্নিনিরাপত্তা-সহ অন্যান্য ব্যবস্থা পরিদর্শন করবে এই টিমগুলি।
প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী, তারাপীঠে প্রায় ৪০০টি হোটেল রয়েছে। প্রতিটি হোটেলে ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এরই মধ্যে ১৫টি হোটেলকে নোটিস দিয়ে অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত মাসেও আরও ৮টি হোটেলকে বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনের নজরে এসেছে, বেশ কিছু হোটেলের ফায়ার লাইসেন্স এবং FSSAI লাইসেন্স নেই। তাই হোটেলগুলির নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট চেকলিস্ট তৈরি করা হবে। সেই চেকলিস্ট অনুযায়ী হোটেলগুলিতে নির্মাণবিধি, অগ্নিনিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।
শুধু পরিদর্শন নয়, হোটেল কর্মী ও ম্যানেজারদের প্রশিক্ষণের উপরও জোর দিচ্ছে প্রশাসন। প্রতিটি হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া বা ফায়ার ড্রিল করা হবে। প্রায় ৪০০টি হোটেলের প্রতিটি থেকে দু’জন করে কর্মীকে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, কৌশিকী অমাবস্যার আগেই তারাপীঠের সমস্ত হোটেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করা যায়।
সোমবার ভোরের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে তারাপীঠ থানা লাগোয়া একটি হোটেলে। ওই হোটেলের নিচের তলায় প্রথম আগুন লাগে বালে আবাসিকদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হোটেলের রিসেপশনের এসির MCB-তে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়।
তা থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা থেকে বাঁচতে কেউ কেউ ব্যালকনি থেকে কিংবা গাছের ডাল ধরে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। আবার কেউ কেউ হোটেলের দোতলা এবং তিনতলা থেকেও সরাসরি পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই পুকুরে তল্লাশি শুরু করেছে এনডিআরএফের প্রতিনিধি দল। স্পিডবোট নামিয়ে পুকুরের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি জলের মধ্যে নামানো হয় প্রশিক্ষিত ডুবুরি। জলে কেউ ডুবে রয়েছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবারই হোটেলের মালিকের ছেলে কল্যাণ পালকে আটক করেছিল পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পরে রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে হোটেলের মালিক প্রবীর পালকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।